সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে প্রতিমা নিরঞ্জনে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, উপচে পড়া ভিড়
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ঐতিহ্য মেনে জমকালো প্রতিমা বিসর্জন দেখলেন সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরের মানুষ। দিনভর নৌকা বাইচে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের মধ্যে ছিল প্রবল উন্মাদনা। কয়েক হাজার মানুষ তা উপভোগ করলেন দশমীতে। শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য আর ভক্তির মেলবন্ধনে পুলিশ, প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ও রঘুনাথগঞ্জের ভাগীরথী নদীতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে শেষ হয় এই বিসর্জন। এবছর নিরঞ্জনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচও হয়। বুধবার দুপুর থেকেই ধুলিয়ানে গঙ্গার বুকে শুরু হয় নিরঞ্জনের পালা। একে একে দু’শোরও বেশি প্রতিমা নিরঞ্জন প্রত্যক্ষ করেন সবাই। তা দেখতেই নদী পাড়ে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমান। রঘুনাথগঞ্জ থানার আইসি সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ২৩১টি প্রতিমার বিসর্জন হয়েছে।

Advertisement

বুধবারে বিজয়া দশমীর বিকেল থেকেই ধুলিয়ানের গঙ্গাঘাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঢাকের বাদ্যি, কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি আর ধুনুচি নাচের ছন্দে মাতেন কাতারে কাতারে মানুষ। মায়ের বিদায়ের এই ক্ষণে কচিকাঁচা থেকে শুরু করে বয়স্ক এবং মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবের এই আনন্দঘন মুহূর্তে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য শুরু থেকেই অত্যন্ত তৎপর ছিল সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ প্রশাসন। গোটা ঘাট চত্বরে গড়ে তোলা হয়েছিল এক অভাবনীয় ও সুদৃঢ় নিরাপত্তা বলয়। নদীর ঘাটে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছিল জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর অভিজ্ঞ ডুবুরি দল ও অ্যাম্বুলেন্স। পাশাপাশি, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও গোটা প্রক্রিয়াটিতে সর্বক্ষণ সহযোগিতা করেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বজায় রাখতে মোতায়েন রাখা হয়েছিল পর্যাপ্ত মহিলা পুলিশ কর্মী। এমনকি, গোটা এলাকার উপর আকাশপথে পুঙ্খানুপুঙ্খ  নজরদারি চালাতে ব্যবহার করা হয় হাই-টেক ড্রোন।
অন্যদিকে, ধুলিয়ানের পাশাপাশি এদিন জঙ্গিপুরেও বেশ জমকালো আয়োজনে শেষ হয় প্রতিমা বিসর্জন। তবে তুলনামূলকভাবে এখানে কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে নিরঞ্জন প্রক্রিয়া। সন্ধ্যা গড়িয়ে যাওয়ার পর ভাগীরথী নদীর ঘাটে একে একে এসে পৌঁছাতে শুরু করে প্রতিমাগুলি। প্রথমে ছোটো কালিয়ার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মূল পর্বের সূচনা হয়। এরপর একে একে মিঠিপুর, সাহেববাজার, কোদাখাকি সহ জঙ্গিপুর শহর ও মফস্বলের বিভিন্ন পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। তবে বৃহস্পতিবার সকালে সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ ছিল মাঝ নদীতে সূতির গদাইপুরের ঐতিহাসিক ‹পেটকাটি দুর্গা›র বিসর্জন। সকালে নৌকায় চেপে সূতি থেকে সশরীরে জঙ্গিপুর আসেন মা পেটকাটি। এই বিশেষ বিসর্জন দেখতে ভাগীরথীর দুই পাড়ে উপচে পড়েছিল  মানুষের ঢল।