নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের সাধারণ মানুষের স্বার্থ নরেন্দ্র মোদি সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়েছেন। এই অভিযোগে ফের সুর চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সংসদের বাজেট অধিবেশনে বারংবার এই অভিযোগ তুলে কোণঠাসা করেছেন মোদি সরকারকে। অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আবার সরব হয়েছেন তিনি। শনিবার বিস্তারিত তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে তাঁর দাবি, ভারতের টেক্সটাইল সেক্টরকে নরেন্দ্র মোদি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিলেন আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করে। রাহুলের দাবি, বস্ত্রশিল্প, রেডিমেড গার্মেন্টস রপ্তানি ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশেষ করে আমেরিকায় বস্ত্র রপ্তানির প্রতিযোগিতা রয়েছে ভারতের। আমেরিকা সেটা সম্যকভাবে জানে। অথচ তারা মার্কিন মুলুক থেকে আমদানি করা তুলোয় তৈরি বস্ত্র রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের উপর কোনো শুল্ক ধার্য করেনি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য জিরো ট্যাক্স। অথচ ভারতের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ শুল্ক। রাহুলের প্রশ্ন, এই শর্ত চুক্তির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও মোদি সরকার নীরবে তা মেনে নিচ্ছে কীসের চাপে। রাহুল বলেন, ভারতের ৫ কোটি পরিবার টেক্সটাইল সেক্টরের উপর সরাসরি নির্ভরশীল। ওই পরিবারগুলির জীবন ও জীবিকা মোদিজি ধ্বংস করলেন।
রাহুলের এই আক্রমণে বিব্রত বিজেপি ও সরকারপক্ষ। তারা এতটাই ক্ষিপ্ত যে, শনিবার দিনভর কখনো স্বয়ং বাণিজ্য মন্ত্রী পীযুষ গোয়েল, এমপি নিশিকান্ত দুবে, আবার কখনো দলের সদর দপ্তরে মুখপাত্ররা রাহুলকে লাগাতার আক্রমণ করেছেন। কেউ বলেছেন, রাহুল মহামূর্খ। কেউ বলেছেন, নির্বোধ। কেউ বলেছেন, অযোগ্য। গোয়েল বলেন, রাহুল গান্ধীর মতো এরকম নির্বোধকে কে বিরোধী দলনেতা করেছিল? এরকম মিথ্যাবাদী রাজনীতির পক্ষে বিপজ্জনক। তিনি বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে কিছু জানেনই না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রটোকল নিয়েও তাঁর কোনো ধারণা নেই। তাই নিজের মতো করে যা মনে আসছে তাই বলছেন। তিনি যা বলছেন, তার বিপরীত হবে। ভারতের টেক্সটাইল সেক্টরের জন্য গোটা বিশ্বের দরজা খুলে যাবে গোটা বিশ্বে। কারণ, আমাদের আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সকলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চুক্তিতে ভারসাম্য রাখতেই হয়। নিশিকান্তর তোপ, রাহুল মহামূর্খ। আমি তাঁকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করছি বিতর্কে বসার জন্য। অন্যদিকে কংগ্রেস বলেছে, টেক্সটাইল রপ্তানিতে ভারতের উপর যে ১৮ শতাংশ ট্যাক্স থাকবে এটা সত্যি না মিথ্যা? শুধু এটুকু বিজেপি বলুক। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ও অন্য বস্ত্র রপ্তানিকারীদের সেই রপ্তানিশুল্ক শূন্য করে দিয়েছে আমেরিকা, এটাও সত্যি কিনা বলুক বিজেপি। দেশবাসীর একটাই প্রশ্ন, নরেন্দ্র মোদি আমেরিকার কাছে সারেন্ডার করলেন কেন? আসল কারণ কী সেটা জানান!