


ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছিল কাশ্মীর উপত্যকা। পর্যটকরাও আসতে শুরু করেছিল ভূস্বর্গে। পর্যটনের হাত ধরে স্থানীয়দের সুদিনও ফিরছিল। তবে সেই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় হামলার পরে কাশ্মীর যেন আবার পর্যটক বিমুখ হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছ’মাসে প্রায় ৫২ শতাংশ পর্যটক কমেছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গত বছরের প্রথম ছ’মাসে ১৫ লক্ষ ৬৫ হাজার পর্যটক এসেছিল কাশ্মীরে। এবার প্রথম ছ’মাসে পর্যটক এসেছে ৭ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮৫৬ জন। এরমধ্যে ৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৩৭ জন ঘরোয়া পর্যটক। বিদেশি পর্যটক এসেছেন ১৫ হাজার ৩১৯ জন।
অথচ বছরের প্রথম তিনমাস পরিস্থিতি এমন ছিল না। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রায় ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার পর্যটক এসেছিলেন। এই হার বজায় রাখলে পর্যটনে রেকর্ড করত কাশ্মীর। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে হামলা সব হিসেব নিকেশ ওলটপালট করে দেয়। কমতে থাকে বুকিং। পর্যটকরাও মুখ ফিরিয়ে নিতে থাকেন উপত্যকা থেকে। তবে ধীরে হলেও পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে ট্রাভেল এজেন্টরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বাড়তে শুরু করেছে বুকিং। শ্রীনগরের ট্রাভেল এজেন্ট ফারুক আহমেদ কুথু অবশ্য বলেন, ‘জুন মাস কিন্তু আশার আলো দেখিয়েছে। পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’
বসে নেই প্রশাসনও। পর্যটকদের দ্বিধা কাটাতে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে কলকাতায় ট্রাভেল ট্রেড ফেয়ারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা কাশ্মীরে ভ্রমণের আহ্বান জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি কাশ্মীর ঘুরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কাশ্মীরে ট্যুরিস্টদের জন্য ফুটবল খেলা আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত।