Bartaman Logo
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের জায়গায় টোটো স্ট্যান্ড! ময়দান ছেড়ে সারি এখন মঙ্গলাহাটে, টোটোমুক্ত হাওড়া ময়দান

প্রশাসনের কড়াকড়িতে হাওড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জিটি রোড অনেকটাই টোটোমুক্ত হয়েছে ঠিকই।

উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের জায়গায় টোটো  স্ট্যান্ড! ময়দান ছেড়ে সারি এখন মঙ্গলাহাটে, টোটোমুক্ত হাওড়া ময়দান
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রশাসনের কড়াকড়িতে হাওড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জিটি রোড অনেকটাই টোটোমুক্ত হয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেই টোটোর অস্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে মঙ্গলাহাটের মধ্যে। বঙ্গবাসী মোড় থেকে হাওড়া থানা পর্যন্ত নিত্যধন মুখার্জি রোডে সারি সারি টোটো দাঁড়িয়ে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে, শহরকে যানজটমুক্ত করতে যে জায়গা থেকে ফুটপাত দখলের অভিযোগে দুশোরও বেশি ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করা হল, সেখানে টোটো স্ট্যান্ড তৈরির যুক্তি কোথায়?

Advertisement

জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে পরিবহণ দপ্তরের নির্দেশিকা কার্যকর করতে গত কয়েকদিন ধরেই জিটি রোডে টোটো চলাচল বন্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। ফলে জিটি রোডের কাজিপাড়া মোড়, মল্লিক ফটক, বঙ্গবাসী মোড় কিংবা হাওড়া ময়দান চত্বরে এখন টোটোর সংখ্যা হাতেগোনা। যানজট কমায় খুশি হাওড়া ময়দানে আসা নিত্যযাত্রীরা। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, টোটো শুধুমাত্র লেন ও বাইলেনগুলিতে চলতে পারবে। এদিকে, হাওড়া ময়দানের অস্থায়ী স্ট্যান্ড বন্ধ হওয়ার পর সেই টোটোগুলির একাংশ মঙ্গলাহাটের নিত্যধন মুখার্জি রোডে এসে দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। সপ্তাহে তিনদিন এই রাস্তায় মঙ্গলাহাটের বিপুল ভিড় থাকে। তার মধ্যেই সোমবার দেখা যায়, বঙ্গবাসী মোড় থেকে হাওড়া থানা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে রয়েছে সারিবদ্ধ টোটো। ফলে বিভিন্ন জেলা কিংবা ভিনরাজ্য থেকে গাড়ি নিয়ে জিনিস কিনতে আসা ব্যবসায়ীদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত মে মাসে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে সমবায়িকা হাট ও মডার্ন হাটের নীচে বসা ২২৫ জন ব্যবসায়ীকে তুলে দেওয়া হয়। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে রবিবার দুপুরের পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চলা মঙ্গলাহাটে এর বড়ো প্রভাব পড়েছে। উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা এখন রবিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ব্যবসা করতে পারছেন। স্থায়ী জায়গার দাবিতে তাঁরা প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে লাগাতার আবেদন জানিয়ে চলেছেন। মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত বলেন, ‘ফুটপাতে বসে ব্যবসা করা যাবে না বলে ব্যবসায়ীদের তুলে দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা মেলেনি। অথচ সেখানেই টোটো স্ট্যান্ড তৈরি হল। রুটি-রুজির বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত।’ ট্রাফিকের এক আধিকারিক জানান, জিটি রোড টোটোমুক্ত করা হচ্ছে। তবে লেনগুলিতে টোটো চলতে পারবে। মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীদের অসুবিধা না করে টোটোগুলিকে যাত্রী তোলা-নামানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়ার বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ