সংবাদদাতা, কান্দি: রাস্তার উপর থেকে শুধু হকারদের সরে যেতে হবে তা নয়। রাস্তাতে টোটো পার্কিংও করা যাবে না। শনিবার সন্ধ্যায় বড়ঞা থানার পুলিশের পক্ষ থেকে তা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল। ফলে ওই থানার কুলি চৌরাস্তা মোড়ে কয়েকশো পরিবার সমস্যায় পড়লেন বলে জানিয়েছেন। হকারদের অনেকে নিজে থেকে সরে যাওয়ার কথা বললেও টোটো চালকদের ঘুম উড়েছে।
প্রসঙ্গত, অতি গুরুত্বপূর্ণ ওই মোড়ের পশ্চিমের রাস্তাটি চলে গিয়েছে বীরভূম। উত্তরের রাস্তা চলে গিয়েছে উত্তরবঙ্গ। দক্ষিনের রাস্তা পূর্ব বর্ধমান ও পূর্বের রাস্তাটি মুর্শিদাবাদের বহরমপুর চলে গিয়েছে। কাজেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ব্যবহার করে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করবেন এটাই স্বাভাবিক। বাস্তবেও টোটোচালক ও হকার মিলিয়ে কয়েকশো পরিবার এই মোড়ের উপর নির্ভরশীল। বহুবছর ধরে তাঁরা এখানে হকারি করছেন বলে জানিয়েছেন।
কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় শনিবার সন্ধ্যার দিকে। বড়ঞা থানার পুলিশ মোড়ের হকারদের নির্দেশ দেয়, রাস্তা থেকে উঠে যেতে হবে। তাঁদের জন্য যান চলাচলে বাধা দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে টোটো চালকদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়, মোড়ের চারপাশে রাস্তার পর টোটো পার্কিং করা যাবে না। টোটো অন্যত্র রাখতে হবে। ওই সময় হকারদের অনেকেই নিজে থেকে সরে যাওয়ার কথা দিলেও টোটো চালকরা সমস্যায় পড়েন। বধূয়া গ্রামের টোটোচালক আবু সালেম বলেন, টোটো চালিয়ে পরিবারের পাঁচজনের খরচ যোগাড় করতে হয়। দূরে টোটো লাগালে যাত্রী পাওয়া সমস্যা হবে। এখন কী হবে বুঝতে পারছি না। প্রায় একই বক্তব্য অন্যান্য টোটো চালকদের।
এদিকে ওই মোড়ের চারদিকের রাস্তার উপরেই অসংখ্য দোকান রয়েছে। ফল, তেলেভাজা, চা, সবজির দোকান, এমনকি লটারিও টেবিল পেতে টিকিট বিক্রি করা হয়। লটারি বিক্রেতা লালটু শেখ বলেন, রাস্তার অনেকটা ছেড়েই আমার টেবিল পাতা রয়েছে। টেবিল উঠে গেলে আগের মতন আর বাজার পাব না। তাই খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছি। ফল বিক্রেতা সামসের শেখ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই রাস্তার উপরেই দোকান পেতে ফল বিক্রি করে আসছি। তবে উঠে যাওয়া ছাড়াও উপায় নেই। পুলিশ কবে উঠে যেতে হবে বলেনি।
হকারদের উঠে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে পুলিশ। -নিজস্ব চিত্র