Bartaman Logo
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে ইচ্ছামতো টোটোর ভাড়া চাইছেন চালকরা, বিরক্ত বাসিন্দারা

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। বর্ধমান থেকে ট্রেনে চেপে রামপুরহাট স্টেশনে নেমেছিলেন বিনয় মণ্ডল। রামপুরহাট মেডিকেলে ভর্তি থাকা এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে যাচ্ছিলেন।

রামপুরহাটে ইচ্ছামতো টোটোর ভাড়া চাইছেন চালকরা, বিরক্ত বাসিন্দারা
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। বর্ধমান থেকে ট্রেনে চেপে রামপুরহাট স্টেশনে নেমেছিলেন বিনয় মণ্ডল। রামপুরহাট মেডিকেলে ভর্তি থাকা এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে যাচ্ছিলেন। স্টেশন চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা এক টোটো চালকের কাছে ভাড়া জানতে চাইতেই তাঁর চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়। যে দূরত্বের ভাড়া জনপ্রতি ১০টাকা সেই পথ যাওয়ার জন্য টোটোচালক ৫০টাকা চান। প্রতিবাদ করলে তাঁকে কটূক্তি করা হয়। বাধ্য হয়েই বাড়তি টাকা গুণতে হল তাঁকে। বিনয়বাবুর এই অভিজ্ঞতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এভাবে রামপুরহাট শহরে টোটোর ভাড়ায় কোনো লাগাম নেই। তিতিবিরক্ত বাসিন্দারা। 

Advertisement

একদা এই শহরে যাতায়াতের মূল মাধ্যম ছিল রিকশ। সেখানে প্রশাসনের নজরদারির অভাবে চালকদের একচ্ছত্র দাদাগিরি চলত। অল্প দূরত্বেও রিকশ চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া হাঁকত। এরপর বিকল্প ও সস্তা পরিবহণ হিসেবে শহরের রাস্তায় টোটো চলাচল শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে স্বস্তি মিললেও সেই টোটোই রামপুরহাটবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, শহরে বর্তমানে প্রায় ১০হাজার টোটো চলাচল করছে। কিন্তু রুট নির্ধারণ বা ভাড়ার নির্দিষ্ট তালিকা না থাকায় ইচ্ছামতো টাকা নিচ্ছে চালকরা। 
রাত বাড়লে বা বৃষ্টি হলে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার জন্য টোটো চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। বিশেষ করে স্টেশন থেকে বাসস্ট্যান্ড, মেডিকেল কলেজ, নিশ্চিন্তপুর কিংবা লোকোপাড়ার মতো এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে ২০-৩০টাকা ভাড়া চাইছেন। বাইরের যাত্রী টের পেলে চার-পাঁচগুণ ভাড়া দাবি করা কার্যত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাড়া নিয়ে আপত্তি জানালেই কথা শুনিয়ে দিচ্ছেন টোটোচালকরা। নিত্যযাত্রী নিবেদিতা দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টির দিন কিংবা সন্ধ্যা গড়ালেই টোটো চালকদের দৌরাত্ম্য বাড়ে। নিয়ম না থাকায় প্রায়দিনই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বচসা হচ্ছে।
শুধু বেলাগাম ভাড়া নয়, টোটোর কারণে শহরে তীব্র যানজট হচ্ছে। পুরসভা ও প্রশাসনের একাধিক নিয়ম জারি করা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। শহরবাসীর একটাই প্রশ্ন, ভাড়া-যন্ত্রণা ও যানজট থেকে রেহাই মিলবে কবে? রামপুরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত জানান, শহরের ভিতরের সব পথের জন্যই টোটো ভাড়া জনপ্রতি ১০টাকা নির্দিষ্ট। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। খুব শীঘ্রই টোটোচালক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। এরপরও চালকরা না শোধরালে প্রশাসন কড়া আইনি পদক্ষেপ নেবে। স্থানীয় বিধায়ক ধ্রুব সাহাও যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়ার সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ