নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাতে মাত্র একদিন। রবিবার রাতে চাঁদকে গ্রাস করবে পৃথিবীর ছায়া। বিশ্ব সাক্ষী থাকবে আরও এক পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের। পূর্ণগ্রাসের আগে-পরে চাঁদের রং হবে ‘কপার-রেডিশ’। তাই নাম ‘ব্লাড মুন’। ৭ সেপ্টেম্বরের আকাশে এই দৃশ্য দেখা যাবে এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের কিছু অংশ থেকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ মেঘমুক্ত আকাশে এই মহাজাগতিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। কলকাতা সহ সারা রাজ্যেই পড়ুয়া, গবেষক, মহাকাশ পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এনিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। বালিগঞ্জের বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামে (বিআইটিএম) টেলিস্কোপের মাধ্যমে সন্ধ্যা ৭টা থেকেই আকাশে চোখ রাখা যাবে। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ বিভিন্ন এলাকায় গ্রহণ দেখার আয়োজন করছে। সেই সঙ্গে গ্রহণকে ঘিরে যেসব কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে, তার বিরুদ্ধেও প্রচার চালাবে বিজ্ঞান মঞ্চ। স্কাই ওয়াচার্স অ্যাসোসিয়েশন কেষ্টপুরের মহিষবাথান সংস্কৃতি সংসদে এনিয়ে একটি আলোচনা সভা করছে।
২০২২ সালের পর ফের এত দীর্ঘ সময়ের চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। গ্রহণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া চলবে প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে। ১ ঘণ্টা ২২ মিনিট চাঁদ সম্পূর্ণ ঢাকা থাকবে পৃথিবীর ছায়ায়। জ্যোর্তিবিজ্ঞানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারী বলেন, ‘সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ পুরোপুরি এক সরলরেখায় চলে আসবে। এমন চন্দ্রগ্রহণ বেশ বিরল। চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের দিকে একটু ঝুঁকে থাকে। তাই প্রতি পূর্ণিমাতে চন্দ্রগ্রহণ হয় না।’ ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৫৮ মিনিটে গ্রহণ শুরু হবে। তখন থেকেই ধীরে ধীরে চাঁদের রং লালচে হতে শুরু করবে। ৯টা ৫৭ মিনিটে চাঁদ অর্ধেক ঢাকা পড়ে যাবে। রাত ১১টার আশপাশে পৃথিবীর ছায়ায় সম্পূর্ণ ঢেকে যাবে চাঁদ। ১২টা ২২ মিনিট পর্যন্ত এমন অবস্থাই থাকবে। রাত ১টা ২৬ মিনিট শুরু হবে গ্রহণ ছাড়ার প্রক্রিয়া। রাত ২টো বেজে ২৫ মিনিট নাগাদ পৃথিবীর ছায়া মুক্ত হবে চাঁদ।
চাঁদের রং লালচে কেন হবে? দেবীপ্রসাদবাবুর ব্যখ্যা, ‘গ্রহণের সময় চাঁদ দিগন্ত রেখার কাছে থাকলে তামাটে রঙের হয়। পৃথিবীর আবহাওয়া মণ্ডলের মধ্য দিয়ে যখন সূর্যের আলো যায়, লাল আলো কম প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের উপর পড়ে, আর নীল আলো কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে ছড়িয়ে যায়। তাই চাঁদকে অপেক্ষাকৃত লাল মনে হয়। কিন্তু ভারতের আকাশে চন্দ্রগ্রহণ মধ্যরাতে হচ্ছে। অর্থাত্ দিগন্তের অনেকটা উপরে থাকবে চাঁদ। ফলে অন্য দেশের তুলনায় ভারতে চাঁদ একটু কম লালচে হবে।’
সূর্যগ্রহণ হোক বা চন্দ্রগ্রহণ—এই ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা ঘিরে রয়েছে হাজারও কুসংস্কার। তার বিরুদ্ধে প্রচার চালাবে বিজ্ঞান মঞ্চ। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সম্পাদক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে গ্রহণের পর্যায়গুলো বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশ্লেষণ করব। সঙ্গে গ্রহণ কেন্দ্রিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচার চলবে।’ গ্রহণ কি খালি চোখে দেখা যাবে? দেবীপ্রসাদবাবু জানান, চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা যেতে পারে। তিনি এও জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে এমন দৃশ্য আর দেখা যাবে না।