নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দৃষ্টিহীনদের হৃদয়স্পর্শী শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম প্রাচীন একটি কালীপুজো কমিটির। ৬৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী টালিগঞ্জ ছাত্র সংঘের এ বছরের থিম ‘আলো’। যা একদিকে আলোর জৌলুস উদযাপন করছে, অন্যদিকে প্রতীকী অর্থে সেইসব মানুষদের সম্মান জানাচ্ছে, যাঁরা অন্ধকারে থেকে নিজস্ব অনুভূতির আলোয় পৃথিবীকে চিনে নেন।
শিল্পী মুখার্জির ভাবনায় গড়ে উঠেছে মণ্ডপ। তাঁর কথায়, ‘দৃষ্টিহীন মানুষরা আমাদের থেকে আলাদা নন। তাঁরা পৃথিবীকে ভিন্নভাবে অনুভব করেন, কিন্তু সেই ভিন্নতা কোনও ত্রুটি নয়, বরং নতুন উপলব্ধি’। মণ্ডপের নকশাতে ফুটে উঠেছে সেই গভীর বার্তা। একদিক আলোয় ভরা, অন্যদিকে আলো প্রতিফলিত হয়ে বোঝাচ্ছে, আলো শুধু চোখে দেখা নয়, অনুভবেও ধরা দেয়। আরও বিশেষ বিষয়, মণ্ডপজুড়ে থাকা চিত্র ও অলংকরণে ব্রেইলের মতো পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে, যাতে দৃষ্টিহীন দর্শনার্থীরা স্পর্শের মাধ্যমে শিল্পকর্ম অনুভব ও ব্যাখ্যা করতে পারেন।
এই উদ্যোগ শুধু আলোকসজ্জার বাহারি রূপে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজে অন্তর্ভুক্তি ও মানবতার বার্তা বহন করছে। স্পর্শযোগ্য শিল্প, প্রতীকী আলো ও অনুভূতির সংমিশ্রণে মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরছে দৃষ্টি ও উপলব্ধির এক নতুন দৃষ্টিকোণ। মণ্ডপে সূক্ষ্মভাবে উল্লেখ করা হয়েছে লুই ব্রেইল ও হেলেন কেলারের মতো ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, যাঁদের জীবন ও কাজ দৃষ্টিহীনতা নিয়ে সমাজের ভাবনা আমূল বদলে দিয়েছিল— অন্ধকারকে পরিণত করেছিল এক নতুন আলোয়। যখন সমগ্র কলকাতা কালীপুজোর আলোয় ঝলমল করছে, এই মণ্ডপ যেন মনে করিয়ে দেবে —সত্যিকারের আলো সবসময় দেখা যায় না, অনেক সময় তা শুধু অনুভব করা যায়।