Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ নববর্ষে সর্বমঙ্গলা, বড়মা কালী সহ মন্দিরগুলিতে পুজো দিতে জমবে ভিড়

সকাল থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত নতুন প্রজন্মের সঙ্গী হয়ে উঠেছে মোবাইল। সর্বক্ষণ স্ক্রল করে চলছে রিলস দেখা। তবে জেড প্রজন্ম শুধু রিলস সংস্কৃতিতেই মজে নেই, তারা প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে চলছে।

আজ নববর্ষে সর্বমঙ্গলা, বড়মা কালী সহ মন্দিরগুলিতে পুজো দিতে জমবে ভিড়
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: সকাল থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত নতুন প্রজন্মের সঙ্গী হয়ে উঠেছে মোবাইল। সর্বক্ষণ স্ক্রল করে চলছে রিলস দেখা। তবে জেড প্রজন্ম শুধু রিলস সংস্কৃতিতেই মজে নেই, তারা প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে চলছে। ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন বরণ করতে তারা রাত জাগে। রাতভর পার্টির আয়োজন হয়। আবার পয়লা বৈশাখেই এই প্রজন্মই জোড় হাত করে মন্দিরের সামনে দাঁড়ায়। বছরের অন্যান্য সময় আধুনিক পোশাক পরতে অভ্যস্ত। কিন্তু নববর্ষের  দিনে পাঞ্জাবি এবং শাড়িতে তারা অনন্য হয়ে উঠছে। সারা বছর ভালো কাটার প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা সকালে মন্দিরের সামনে লাইনে দাঁড়াবেন।  পূর্ব বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির কিংবা বড়মা কালী মায়ের মন্দির, সব জায়গাতেই একই ছবি দেখা যাবে। অনেকে কঙ্কালেশ্বরী মায়ের মন্দিরে গিয়েও পুজো দেবেন। অনেকে আবার  সকালের ট্রেন ধরে তারাপীঠে রওনা দেবেন।

Advertisement

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অনুপম দাস বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভক্তি বাড়ছে। আমি প্রতি বছরই বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে মন্দিরে যাই। অন্যান্য বন্ধুরাও মায়ের মন্দিরে পুজো দিয়ে বছরের প্রথম দিন শুরু করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেও বিরক্তি আসে না। সমাজ যতই আধুনিক হোক না কেন, পুরনো সংস্কৃতি ধরে রাখতেই হবে।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও সর্বমঙ্গলা মন্দিরে উপচে পড়া ভিড় হবে ধরে নিয়েই কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়েছে। সর্বমঙ্গলা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য, সর্বমঙ্গলা মায়ের পুজো দিতে সব বয়সি মানুষজন আসেন। প্রতি বছরই তাঁরা সুষ্ঠুভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করেন। এদিন সকাল থেকেই মায়ের পুজো শুরু হবে। হোমযজ্ঞেরও আয়োজন করা হবে। সর্বমঙ্গলা মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষে সঞ্জয় ঘোষ বলেন, বছরের প্রথমদিন ভিড় উপচে পড়ে। সেকারণে এদিন সোনা বা অন্য মূল্যবান অলংকার না পরে মন্দিরে আসার জন্য বলা হয়। ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য এবারও স্বেচ্ছাসেবক এবং পুলিস থাকছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কঙ্কালেশ্বরী এবং বড় মা কালী মায়ের মন্দিরের সামনেও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা পুজো দেওয়ার জন্য আসেন। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না হয় তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলার বাসিন্দারা বলেন, যোগাদ্যা মায়ের মন্দিরের পুজো দিতেও বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা ভিড় করেন। সেই লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দেয় টিন এজাররা। তবে সর্বক্ষণ সঙ্গে মোবাইল পকেটে রেখেই তারা মায়ের কাছে প্রার্থনা করে। বর্ধমানের নতুন প্রজন্মের বাসিন্দা শুভঙ্কর দাস বলেন, বাংলা বছরের প্রথম দিনটি মন্দিরে আসা চাই-ই-চাই। সকালে পুজো দেওয়ার পর দুপুরে বাড়ি ফিরে খাওয়া দাওয়া করব। বাইরের খাবার খেতে ইচ্ছে করে না। এখন অবশ্য শহরের বিভিন্ন রেস্তরাঁয় বিশেষ থালি করা হয়। তবে বছরের প্রথমদিন আমাদের কাছে ঘরের রান্না‌ই প্রথম পছন্দের। আউশগ্রামের প্রবীণ বসিন্দ প্রশান্ত গোস্বামী বলেন, নতুন প্রজন্ম শুধু আধুনিকতাকেই অবলম্বন করে বেঁচে থাকে এমনটা নয়। আগের ঩চেয়ে তাদের মধ্যে মন্দিরে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি বেড়েছে। সেই কারণেই নববর্ষের দিন প্রতিটি বড় মন্দির এই বিশেষ আয়োজন করতে হয়।ছবি: মুকুল রহমান

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ