সংবাদদাতা, কান্দি: আজ রবিবার কান্দির প্রাচীন দোহালিয়া দক্ষিণাকালী মন্দিরে বিশেষ পুজোয় দেবীকে লক্ষ্মীরূপে আরাধনা করা হবে। উচ্চারিত হবে লক্ষ্মী মন্ত্র। মন্দির চত্বরে বসেছে মেলাও। অন্যদিকে, শনিবার থেকেই কান্দির মনোহরপুর, গোপগ্রাম, ঘনশ্যামপুর, স্বর্ণহাটি, মাটিয়ারা প্রভৃতি গ্রামগুলিতে ধনদেবীর আরাধনা ঘিরে উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। সবগুলি গ্রামে বসেছে লক্ষ্মী মেলা। কয়েকদিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কান্দির দোহালিয়ার প্রাচীন ওই দক্ষিণা কালী মন্দিরের সঙ্গে নাম জুড়েছে বাংলার রাজা লক্ষ্মণ সেন ও বল্লাল সেনের। বছরভর দূরদূরান্ত থেকে প্রচুর ভক্ত আসেন। ওই এলাকার বাসিন্দারা দক্ষিণাকালী দেবীকে গ্রাম্য দেবী হিসেবেই পুজো করে থাকেন। বছরের বিভিন্ন তিথিতে দেবীকে বিভিন্ন রূপে পুজো করা হয়। মন্দিরের পুরোহিত প্রকাশ পাণ্ডার কথায়, এদিন সন্ধ্যার বিশেষ পুজোয় দেবীকে লক্ষ্মীরূপে আরধানা করা হবে। দেবীর সামনে লক্ষ্মী মন্ত্রও উচ্চারিত হবে। বহুবছর ধরে এই রীতি চলে আসছে। মন্দির কমিটির সম্পাদক গৌরব চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রতিবছর এই দিনে প্রচুর ভক্ত কান্দি আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। মন্দির চত্বরে লক্ষ্মী মেলাও বসেছে। তবে দর্শনার্থীদের কথা ভেবে মন্দির কমিটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে মহিলা ভক্তদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে কান্দি মহকুমার মনোহরপুরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়ে আসছে। সেখানে চারদিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। উদ্যোক্তা তপন কুমার ভট্টাচার্য বলেন, এখানে কোনো বাড়িতে আলাদা করে লক্ষ্মীপুজো হয় না, গ্রামে একটিই মাত্র প্রতিমার পুজো হয়। তাতে গ্রামের প্রত্যেক পরিবার অংশ নেন। গ্রামের পুজোর চেয়েও বড়ো উৎসব হল এই লক্ষ্মীপুজো।
আর যে কারণে গোটা গ্রাম আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে। প্রত্যেক বাড়িতে নারকেল নাড়ু থেকে মুড়ি ও মুড়কি বানানো শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি অতিথিদের আনাগোনাও শুরু হয়েছে। বাইরে কাজ করেন এমন যুবকরাও বাড়ি ফিরছেন। এমনকি, অনেকে দুর্গাপুজোয় না হলেও লক্ষ্মীপুজোয় নতুন জামা কাপড়ও কিনেছেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে ভরতপুর ১ ব্লকের মাটিয়ারা গ্রামেও লক্ষ্মী পুজোর উন্মাদনা দেখা গিয়েছে এদিন থেকেই। সেখানে গ্রামের মহিলারা এই পুজো পরিচালনা করেন বলে দাবি। পুজোর দিন প্রচুর মানুষকে অন্নভোগ বিলি করা হয়। এই ব্লকের স্বর্ণহাটি গ্রামেও এদিন থেকেই লক্ষীপুজোর উন্মাদনা দেখা গিয়েছে। পুজোর কারণে গোটা গ্রাম আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে। আবার ভরতপুর ২ ব্লকের গোপগ্রাম, ঘনশ্যামপুরেও লক্ষ্মীপুজোর উন্মাদনা দেখা গিয়েছে।



