নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হলেও রাতে ঘটে গিয়েছিল ঘটনা। বাইকের রেষারেষি থামাতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছিলেন নৈহাটির তৃণমূল প্রার্থীর ছেলে শুভম দে। তিনি বর্তমানে নৈহাটির মাতৃসদন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাঁর মাথায় স্ক্যান হয়েছে। এদিকে বিরোধীরা বলছেন, এটাও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। মার খেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীর ছেলে, আর যাঁরা মেরেছেন, তাঁরাও তৃণমূল করেন। অবশ্য তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে বলেন, আমার ছেলে জোরে বাইক চালানোর প্রতিবাদ করতে গিয়ে মার খেয়েছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিস বিষয়টি দেখছে। এদিকে, এই মামলায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনায় বাকি জড়িতদের খোঁজ চলছে।
Advertisement
এদিকে, নৈহাটি বিধানসভার উপ নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৬৪.৩৮ শতাংশ। এটা সম্প্রতি হওয়া সবক’টি ভোটের তুলনায় কম। অভিজ্ঞ মহলের মতে, উপ নির্বাচনে স্বাভাবিকভাবেই ভোটের হার কম থাকে। তার উপর ভোটের দিন রবিবার না হওয়ায় গ্রামীণ এলাকায় অনেককে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। তবে বিরোধী ভোট ভাগ হওয়ায় তৃণমূলের পক্ষে ভালো হবে। এখন দেখার, সিপিএমের ভোট লিবারেশন প্রার্থী দেবজ্যোতি মজুমদার পান, না তাদের একদা সঙ্গী কংগ্রেস প্রার্থী পরেশ সরকারের বাক্সে চলে যায়। কারও কারও মতে, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের মতো সিপিএমের ভোট বিজেপির বাক্সে চলে যেতে পারে। অবশ্য সিপিআইএমএল প্রার্থী মনে করছেন, আরজিকর কাণ্ডের পরে যেভাবে মানুষ প্রতিবাদে মুখর হয়েছে, এবং সেই আন্দোলনে তৃণমূল যেভাবে হামলা চালিয়েছে, তার প্রভাব এই ভোটে পড়বেই।
অবশ্য তা মানতে রাজি নন তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে। তাঁর মতে, নৈহাটিতে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সারা বছর আপদে-বিপদে মানুষের পাশে থাকেন। উপ নির্বাচনে একটু ভোট কম পড়ে ঠিকই। তবে বুধবার যা ভোট পড়েছে, তাতে আমি ভালো মার্জিনে জিতব।



