নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়া পুরসভার কর্মী বিক্ষোভের জেরে শহরজুড়ে ভোগান্তি চরমে উঠেছে। টানা দু’দিন সাফাই কাজ বন্ধ। গোটা শহর কার্যত ভাগাড়ে পরিণত। বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনার স্তূপ। কোথাও গবাদি পশু ও কুকুর আবর্জনা ঘেঁটে খাবারের জন্য তাণ্ডব চালাচ্ছে। আবর্জনার দুর্গন্ধে টেকা দায়। এই অসহনীয় পরিস্থিতিতেও পুরসভা ও আন্দোলনকারী অস্থায়ী কর্মীরা নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে আপাতত দুর্ভোগ মিটে যাওয়ার কোনও লক্ষণ চোখে পড়ছে না।
Advertisement
সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিন পুরভবন থেকেও নাগরিকরা পরিষেবা পাননি। মিউটেশন, ট্যাক্স দেওয়া, বিল্ডিং প্ল্যান তৈরি সহ যাবতীয় কাজ ছিল কার্যত বন্ধ। দুপুর পর্যন্ত পুরসভার গেটে অস্থায়ী কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা এদিনও জানিয়েছেন, ‘ভাতার টাকা না মিললে পরিষেবা শুরু করা হবে না।’ এই পরিস্থিতিতে সোমবারই বৈঠকে বসে জেলা প্রশাসন। সেখানে পুরসভার ফিনান্স অফিসার সহ একাধিক কর্তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই জরুরি ভিত্তিতে ডাকা হয়েছে বৈঠক। তবে জানা গিয়েছে, রাত পর্যন্ত কোনও সমাধান সূত্রই মেলেনি। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাছে পুরসভার কর বাবদ কিছু টাকা বকেয়া আছে। বৈঠকে সেই বিষয়টি জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের জানিয়েছে পুরসভা। এক পুর আধিকারিক বলেন, ওই বকেয়া পেলে সমস্যা কিছুটা মিটবে। আর চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, ‘নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন আমাকে পুরসভার চেয়ারম্যান করেছেন সেদিন থেকেই সমস্যা তৈরির চেষ্টা চলছে। দলের একটি অংশ বারবার আমাকে পদ থেকে সরাতে নাগরিক পরিষেবায় সঙ্কট তৈরির চেষ্টা করেছে। এবারও বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের সাহায্য নিয়ে অস্থায়ী কর্মীদের উসকে দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের ভাতার টাকা বকেয়া আছে, তা সত্য। কিন্তু কিছুটা করে ভাতা আমরা দিয়েছি। কিছু নেতা আমাকে সরাতে দলের মুখ পোড়াচ্ছে।’ তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র বলেন, ‘চুঁচুড়া পুরসভায় একটি প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি দেখছে। দলের তরফেও ওই বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের শুরু থেকেই ভাতার টাকা নিয়ে পুর প্রশাসন বনাম অস্থায়ী কর্মীদের দফায় দফায় বিরোধ হয়। নভেম্বর মাসে পুরকর্মীরা একাধিকবার পরিষেবা বন্ধের হুমকি দেন। এবার তাঁরা চূড়ান্ত কর্মবিরতি শুরু করায় পরিস্থিতি বেহাল। আর নাগরিক মহলের নাভিশ্বাস। নিজস্ব চিত্র
প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের শুরু থেকেই ভাতার টাকা নিয়ে পুর প্রশাসন বনাম অস্থায়ী কর্মীদের দফায় দফায় বিরোধ হয়। নভেম্বর মাসে পুরকর্মীরা একাধিকবার পরিষেবা বন্ধের হুমকি দেন। এবার তাঁরা চূড়ান্ত কর্মবিরতি শুরু করায় পরিস্থিতি বেহাল। আর নাগরিক মহলের নাভিশ্বাস। নিজস্ব চিত্র



