Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুকের অবসরপ্রাপ্ত জিএম একদিনে ৪৬ লক্ষ খোয়ালেন

তমলুকের অবসরপ্রাপ্ত জিএম একদিনে ৪৬ লক্ষ খোয়ালেন
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মুম্বই পুলিসের নামে মাদক ও অর্থ পাচারের ভুয়ো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ভয়। আর এই অস্ত্রে একদিনে ৪৫লক্ষ ৭০হাজার টাকা লোপাট করেছিল সাইবার অপরাধীরা। ওই ঘটনায় প্রতারিত হয়েছেন তমলুক শহরের পার্বতীপুরের এক বাসিন্দা। প্রতারিত ব্যক্তির নাম অনুপকুমার মাইতি। তিনি প্রতিরক্ষা দপ্তরের অধীনস্ত একটি সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন। ২০২১সালে ৩১আগস্ট অবসর নেওয়ার পর এককালীন পাওয়া অর্থ একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রেখেছিলেন। প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়ে অবসরকালীন পাওয়া যাবতীয় টাকা খুইয়েছেন। তাঁর দাবি, সঞ্চিত অর্থরাশির সুদ বাবদ পাওয়া টাকায় সংসার চালাতেন। এক দিনে ৪৫লক্ষ ৭০হাজার খুইয়ে এখন চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছেন। ২২জানুয়ারি ওই ব্যক্তি তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর করেছেন। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
Advertisement
জানা গিয়েছে, গত ১৪জানুয়ারি সকাল ১০টা ৩৪মিনিট নাগাদ অনুপবাবু একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পান। তাতে বলা হয়, মুম্বই পুলিসের খাতায় তাঁর নামে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট বেরিয়েছে। তাঁর নামে মাদক পাচার ও অর্থ পাচারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এরপরই হোয়াটসঅ্যাপে পর পর চারটি চিঠি ঢুকে যায়। প্রথম চিঠি সিআইডির সাইবার ক্রাইম বিভাগের ডেপুটি পুলিস কমিশনারের নাম নিয়ে পাঠানো। তাতে বলা হয়, ড্রাগ পাচারের মারাত্মক অভিযোগে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে। দ্বিতীয় চিঠিতে বলা হয়, অর্থ পাচারের মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। আইপিএস অফিসার এনিয়ে ফাইল রেডি করেছেন। তৃতীয় চিঠিতে বলা হয়, ইডি এটিএম কার্ড ব্লক করে দিয়েছে। চতুর্থ চিঠিতে বলা হয়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজ দ্রুত শুরু হবে। এই অবস্থায় দু’ঘণ্টার মধ্যে মুম্বই পুলিস কমিশনারেটের অফিসে হাজির হতে বলা হয়। চার চিঠির বিষয়বস্তু পড়ার পর অনুপবাবুর মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন। দু’ঘণ্টার মধ্যে কোনও অবস্থায় মুম্বইয়ে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলে কাতর আবেদন করেন। এরপরই মুম্বই পুলিসের অফিসার পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কল করে তাঁকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করার হুমকি দেওয়া হয়। আর একজন ইডি অফিসার বলে নিজেকে পরিচয় দিয়ে ফিক্সড ডিপোজিট এবং রেকারিং ডিপোজিটের যাবতীয় সফ্ট কপি চেয়ে পাঠায়। সেইমতো ওইসব কপি সাপ্লাই দেন অনুপবাবু। তাতে জমা অর্থরাশি প্রায় ৯০লক্ষ টাকা। এরপরই শুরু হয় আসল ব্ল্যাকমেল। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নামে পর পর ভুয়ো চিঠি পাঠিয়ে অনুপবাবুর রক্তচাপ বাড়ানো হয়। ২০জানুয়ারি পর পর সাতটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দফায় দফায় ৪৫লক্ষ ৭০হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন অনুপবাবু। এতগুলো টাকা খোয়ানোর পর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজারের উপলব্ধি হয়, তিনি একটি প্রতারণা চক্রের খপ্পড়ে পড়েছেন। এরপরই ২২তারিখ তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হন।
মাদক পাচারের ভয় দেখিয়ে প্রায়ই মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের নাম নিয়ে ভুয়ো ফোন কল আসে। এইসব ফোন থেকে সতর্ক না হলে সমূহ বিপদ। এনিয়ে ধারাবাহিক প্রচারের পরও ৩৫বছর ধরে একটি সংস্থার শীর্ষপদে কাজ করা অনুপবাবু ঠকে গিয়েছেন। গোটা ঘটনায় তিনি মর্মাহত। খোয়া যাওয়া টাকা ফেরতের জন্য পুলিসের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। অবসর জীবন কাটানোর জন্য ওই অর্থ তাঁর সম্বল ছিল। সেই সম্বল খুইয়ে এখন হতাশ অনুপবাবু। তিনি বলেন, সাইবার প্রতারকরা এভাবে ঠকাবে আমি বুঝতে পারিনি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ