নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডি ফার্ম পরীক্ষায় গণটোকাটুকি এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া পদক্ষেপ করল কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সংসদ। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি হুগলির আরামবাগের একটি সরকারি পলিটেকনিকে সিট পড়া পাঁচটি ডি ফার্ম কলেজের পড়ুয়াদের রেজাল্ট স্থগিত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ওই পলিটেকনিকের অদূরে প্রিন্টার, জেরক্স মেশিন সহ ঢালাও আয়োজন করে প্রশ্নপত্রের কপি তৈরি, উত্তরপত্র লেখা চলছিল বলে অভিযোগ। সেগুলি পরীক্ষাকেন্দ্রে সরবরাহও করা হচ্ছিল। এনিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে সংসদ। তবে শিক্ষামহলের দাবি, আগেই সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল তাদের।
Advertisement
এ বছরই প্রথমবার বেসরকারি ডি ফার্ম কলেজগুলির সিট পড়েছে অন্য কেন্দ্রে। ৩৭টি সরকারি পলিটেকনিক কলেজকে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বসেন। যদিও সরকারি ডি ফার্ম কলেজের ক্ষেত্রে ছিল হোম সেন্টার। এ নিয়ে বেসরকারি ডি ফার্ম কলেজগুলির আপত্তিও ছিল। তবে দেখা গিয়েছে, বাইরের সেন্টার হলেও টোকাটুকিতে বিরাট ব্যাঘাত ঘটেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বেশ কিছু কলেজের কর্মীদের একাংশও অর্থের বিনিময়ে এই কাজে মদত দিয়েছে। এই অবস্থায় বেসরকারি কলেজগুলির সংগঠন ইউনাইটেড ফোরাম প্রশ্ন তুলছে, তাদের জন্য ‘অ্যাওয়ে’ সেন্টার করে লাভ কী হল? হোম সেন্টার ফিরিয়ে আনা এবং বীরভূমে ছাত্রীদের তল্লাশির নামে হেনস্তার প্রতিবাদে কারিগরি ভবন অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। ফোরামের বক্তব্য, টোকাটুকি যে চলছে, সেই খবর আগাম জানত সংসদ। তাই পরীক্ষা চলাকালীন ফার্মেসি কলেজের অধ্যক্ষদের সংসদ হুঁশিয়ারি দিয়ে ই-মেলও করেছিল। বলা হয়েছিল, বারবার অভিযোগ উঠলে অনুমোদনও বাতিল করা হতে পারে। পরীক্ষা আয়োজন করেছে সংসদ। ফার্মেসি কলেজগুলির সেখানে কোনও ভূমিকা থাকার কথা নয় বলেই ফোরামের যুক্তি। বরং পলিটেকনিক কলেজগুলিতে নজরদারি বাড়ানো উচিত ছিল সংসদের। এভাবে চললে রাজ্যের কলেজগুলি বন্ধ হয়ে যাবে আর পড়ুয়ারা ভিন রাজ্যে চলে যাবেন বলে আশঙ্কা তাদের। যদিও কারিগরি শিক্ষাদপ্তরের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে
ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দোষ কেউ শাস্তির মুখে পড়বে না। সেন্টার ইনচার্জ, পরীক্ষার অবজার্ভারদের রিপোর্টও খতিয়ে দেখা হবে।
ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দোষ কেউ শাস্তির মুখে পড়বে না। সেন্টার ইনচার্জ, পরীক্ষার অবজার্ভারদের রিপোর্টও খতিয়ে দেখা হবে।



