নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় একটি চারতলা বাড়িতে আড়ে বহরে বেড়ে উঠেছিল বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, পুরসভা, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ভুয়ো নথিপত্র তৈরির চক্র। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দারা সেখানে অভিযান চালান। তবে মূল চক্রীদের ধরা না গেলেও বাড়ির মালিক মহম্মদ ফারুক আনসারি ও বিশ্বজিৎ দে নামের এক অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাকড়াও করেছেন তাঁরা। ওই বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে হাজারের কাছাকাছি ভুয়ো ও জাল নথি ও সেসব তৈরির নানা সামগ্রী।
Advertisement
টিকিয়াপাড়ার নুর মহম্মদ মুন্সি লেন। মসজিদ পেরিয়েই সঙ্কীর্ণ ও ঘিঞ্জি এক গলির ভিতরে চারতলা ওই বাড়ি। সেখানে একাধিক পরিবারের বাস। চতুর্থ তলায় বাড়ির মালিক মহম্মদ ফারুক আনসারির ঘরেই চলত জাল নথি তৈরির কারবার। হাওড়া সিটি পুলিস সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার বিকেলে গোয়েন্দাদের একটি দল ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। ঘর থেকে পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন পুরসভা ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের স্ট্যাম্প পেপার, ভুয়ো জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র। মিলেছে হাওড়া শহর ও কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার বিভিন্ন স্কুলের জাল মার্কশিট, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট, অ্যাডমিট কার্ড, প্রোগ্রেস রিপোর্ট। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত হয়েছে অগণিত ভুয়ো আধার, প্যান, ভোটার কার্ড, এমনকী ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্সও। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা প্রায় হাজারের কাছাকাছি বলে পুলিস সূত্রে খবর। ওই ঘর থেকে মাইক্রোচিপ লাগানো প্রচুর ব্ল্যাঙ্ক কার্ড, রাবার স্ট্যাম্পও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত মহম্মদ ফারুক আনসারি ও বিশ্বজিৎ দে’কে গ্রেপ্তার করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালান গোয়েন্দারা। পুলিসের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা কিছুই বলতে চায়নি বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের এদিন হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, ওই বাড়ির চারতলায় যে এতদিন ভুয়ো নথি বানানো হতো, তা জানতেই পারেনি কেউ। ওই বাড়িতে কাদের যাতায়াত ছিল, সে ব্যাপারে অবশ্য মুখ খোলেননি তাঁরা। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাল নথি বানানোর এই কারবার দীর্ঘদিনের। এই কারবারের মূল চাঁইদের এখনও জালে তুলতে পারেনি পুলিস। যেসব অপরিচিতের এই বাড়িতে আনাগোনা ছিল, টাকার বিনিময়ে তাদের এই ভুয়ো নথি দেওয়া হতো কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগের এক পদস্থ অফিসার বলেন, ‘প্রচুর ভুয়ো নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এগুলি কাদের দেওয়া হতো, কারা তৈরি করত, সবটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, ওই বাড়ির চারতলায় যে এতদিন ভুয়ো নথি বানানো হতো, তা জানতেই পারেনি কেউ। ওই বাড়িতে কাদের যাতায়াত ছিল, সে ব্যাপারে অবশ্য মুখ খোলেননি তাঁরা। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাল নথি বানানোর এই কারবার দীর্ঘদিনের। এই কারবারের মূল চাঁইদের এখনও জালে তুলতে পারেনি পুলিস। যেসব অপরিচিতের এই বাড়িতে আনাগোনা ছিল, টাকার বিনিময়ে তাদের এই ভুয়ো নথি দেওয়া হতো কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগের এক পদস্থ অফিসার বলেন, ‘প্রচুর ভুয়ো নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এগুলি কাদের দেওয়া হতো, কারা তৈরি করত, সবটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’



