Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ত্বিশা মৃত্যু রহস্য: গর্ভপাতের পর শুরু হয় সমস্যা, দাবি ধৃত স্বামীর

ত্বিশা শর্মা মৃত্যু রহস্য সমাধানের দায়িত্ব এখন সিবিআইয়ের কাঁধে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টও নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত সামনে আনতে হবে আসল সত্যি। এই আবহে মুখ খুললেন ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিং।

ত্বিশা মৃত্যু রহস্য: গর্ভপাতের পর শুরু হয় সমস্যা, দাবি ধৃত স্বামীর
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভোপাল: ত্বিশা শর্মা মৃত্যু রহস্য সমাধানের দায়িত্ব এখন সিবিআইয়ের কাঁধে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টও নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত সামনে আনতে হবে আসল সত্যি। এই আবহে মুখ খুললেন ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিং। ভোপাল আদালতের নির্দেশে সাতদিনের পুলিশ হেপাজতে রয়েছেন তিনি। সেখানেই জেরার মুখে জানালেন, ঘটনার সময় অর্থাৎ ত্বিশার মৃত্যুর সময় তিনি ঘুমোচ্ছিলেন। একইসঙ্গে দাম্পত্য জীবন সম্পর্কেও বিস্তারিত জানিয়েছেন সমর্থ। 

Advertisement

গত ১২ মে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রাক্তন মিস পুনে ত্বিশা শর্মার ঝুলন্ত দেহ। প্রাথমিকভাবে বিষয়টাকে আত্মহত্যা ভাবা হয়েছিল। যদিও ত্বিশার পরিবারের দাবি ছিল, শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মেয়ের। ত্বিশার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের পালটা দাবি, ত্বিশা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ত্বিশার মৃত্যুর পর তাঁকে মানসিকভাবে অসুস্থ দাবি করেন ত্বিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিং। জানা যাচ্ছে, পুলিশের জেরায় সমর্থ অর্থাৎ ত্বিশার স্বামীও তাঁর মা গিরিবালার একাধিক মন্তব্য আউড়েছেন। তবে নিজেদের দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, গত এপ্রিল থেকেই ত্বিশার মধ্যে অদ্ভুত বদল লক্ষ করা যাচ্ছিল। সমর্থের দাবি, ১৭ এপ্রিল ত্বিশা বুঝতে পারেন তিনি গর্ভবতী। কিছুদিনের মধ্যে গর্ভপাতও করান। এই সময় থেকেই নিজের পুরানো মডেলিং জীবন নিয়ে অনুশোচনা করতেন ত্বিশা। সমর্থের কথায়, বিয়ে, শ্বশুরবাড়ি, ঘরের কাজ ত্বিশার ভালো লাগত  না। এর জন্য সমর্থকে কথা শোনাতেন বলেও দাবি ধৃতের আইনজীবীর। শুধু তাই নয়, স্ত্রীকে ৭ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন সমর্থ। কিন্তু কী কারণে, তা স্পষ্ট করেননি।
তবে মৃত্যুর দিন কী হয়েছিল? সমর্থ সাফ জানিয়েছেন, তিনি ঘুমোচ্ছিলেন। তাঁর কথায়, সেদিন রাতের খাবার খেয়ে দুজনেই ঘুমোতে যাই। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফোন করার অছিলায় ত্বিশা ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এরপর কী হয়েছে তাঁর মনে নেই বলেই দাবি সমর্থের। কারণ ত্বিশা বেরিয়ে যেতেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। মাঝরাতে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে। জানতে পারেন, ত্বিশাকে দীর্ঘক্ষণ ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। এবং ত্বিশার মা উদ্বিগ্ন হয়ে সেকথা সমর্থের মাকে জানিয়েছিলেন। তারপর খোঁজ শুরু হয়, এবং ছাদের ধারে ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ আবিষ্কার করেন সমর্থ। একথা বলেই সমর্থ দাবি করেন, ত্বিশার মৃত্যুতে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো ভূমিকা নেই। তাহলে মৃত্যুর পর কেন গা-ঢাকা দিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেননি সমর্থ। স্রেফ জানিয়েছেন, জব্বলপুরেই ছিলেন। কোথায় ছিলেন বা কে তাঁকে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছিল এসব জানাতেও অস্বীকার করেছেন সমর্থ। তদন্তকারীদের দাবি, এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ত্বিশার দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টও সামনে আসেনি। তাই সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ হলেই ত্বিশা মৃত্যু রহস্য সমাধান হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ