Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃষা-সৌভিকের নির্মম পরিণতির সাক্ষী ছোট্ট বিড়াল, মিলল ফ্ল্যাটে, নিউটাউনের লিভ-ইন কাণ্ড

নিউটাউনের লিভ-ইন কাণ্ডে তৃষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, সৌভিক হাসপাতালে। বিড়ালটির অবস্থা সংকটজনক। বিস্তারিত জানুন।

তৃষা-সৌভিকের নির্মম পরিণতির সাক্ষী ছোট্ট বিড়াল, মিলল ফ্ল্যাটে, নিউটাউনের লিভ-ইন কাণ্ড
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সারাক্ষণ যিনি আদর করতেন, পিঠে হাত বুলিয়ে দিতেন, সেই মানুষটির দেহ ঝুলছে সিলিং ফ্যানে। আর একজন হাতের শিরা কাটা অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। রক্তে ভেসে যাচ্ছে দু’কামরার ফ্ল্যাট। সে রক্তে পা দিয়ে অসহায় হয়ে ঘুরছে ছোট্ট একটি বিড়াল। তার সামনেই সম্ভবত ঘটেছে মর্মান্তিক ঘটনাটি।

Advertisement

তাকে পুষেছিলেন তৃষা ও সৌভিক। এই দুই লিভ ইন পার্টনারের মর্মান্তিক পরিণতির পর ফ্ল্যাট থেকে বিড়ালটিকে উদ্ধার করে নিউটাউন থানার পুলিশ। এক লহমায় আদরের বাসস্থান বসবাসের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে প্রাণীটির কাছে। কোথায় যাবে সে? তৃষা ইহলোকে নেই। সৌভিক মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। বিড়ালটিকে ফ্ল্যাট মালিকের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। অবলা প্রাণীটি কিছু কি বুঝতে পেরেছে? মু঩খে খাবার কেন তুলছে না ছোট্ট বিড়াল?
নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়ায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়ায় নিয়েছিলেন তৃষা সাহা (২৫) এবং তাঁর লিভ-ইন পার্টনার সৌভিক রায় (৩০)। রবিবার রাতে ওই ফ্ল্যাটে তৃষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। আর হাতের শিরা কাটা অবস্থায় উদ্ধার হন সৌভিক। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। অস্ত্রোপচার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত তাঁর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল। কিন্তু সংকট কাটেনি। সুস্থ হওয়ার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর তৃষার মৃত্যু রহস্যেরও কিনারা হবে। ঝুলন্ত তৃষার পায়ে রক্তের ছাপ ছিল। তা কি সৌভিকেরই রক্ত। সৌভিক দু’হাতের শিরা কেটেছিল। তাঁর দু’হাত দিয়ে রক্ত ঝরছিল। তিনি কোনো কারণে কি তৃষার পা ধরেছিলেন। তখনই রক্ত লেগে গিয়েছিল? দু’কামরার ফ্ল্যাটের দু’টি ঘরেই রক্তের চিহ্ন। অনুমান, শিরা কাটার পর সৌভিক দু’টি ঘরেই গিয়েছেন।
সম্পর্কের অবনতি নাকি আরও গভীর কোনো রহস্য লুকিয়ে ঘটনার সঙ্গে। বাড়ছে রহস্য। তৃষার মোবাইল ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। দুই পার্টনারের সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয় কেউ এসেছিলেন কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিড়ালটিকে পুষেছিলেন দু’জনেই। ফ্ল্যাটে পায়ে পায়ে ঘুরত সেটি। রবিবার রাতে পুলিশ যখন ফ্ল্যাটে পৌঁছয় তখন চুপ করে বসেছিল। মেঝেতে রক্ত। বিড়ালটির পায়েও রক্ত মাখামাখি। তার পায়ের থাবা থেকে রক্ত ধুয়ে দেয় পুলিশ। তারপর ফ্ল্যাট মালিকের হাতে তুলে দেয়। বিড়ালটি মানসিকভাবে বিধস্ত। ওর যত্নের যেন কোনো ত্রুটি না হয়, তা দেখতে মালিককে অনুরোধ জানান তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ