


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আধার কার্ড আবশ্যক। যে ধর্মশালা এবং হোটেলে বুকিং আছে, তার বিস্তারিত ঠিকানা ফোন নম্বর জানানো প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে সেই ফোন নম্বর দিতে হবে। আজ থেকে শুরু হচ্ছে চার ধাম যাত্রা। আজ গঙ্গোত্রী-যমুনোত্রী। শুক্রবার কেদারনাথ। রবিবার বদ্রীনাথ। চার ধাম যাত্রা প্রতি বছরই হয়ে থাকে। কিন্তু এবার যেন সাজো সাজো রব। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে বিরাট চ্যালেঞ্জ। কারণ পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসবাদী হামলার পরই চার ধাম যাত্রা শুরু হতে চলেছে। ওই আতঙ্কের রেশ কতটা সেটা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, যাত্রীর প্রাথমিক সংখ্যা দেখেই। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত যেখানে ১৩ লক্ষ যাত্রী অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করেছিল, সেখানে গত সাতদিনে রেজিস্ট্রেশন প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। অফলাইন রেজিস্ট্রেশনেও ভাটা পড়েছে। শুরু হয়েছে হোটেল বুকিং বাতিল করা। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পরই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সেই কারণেই একা উত্তরাখন্ড সরকারই নয়, কেন্দ্রীয় সরকার মরিয়া হয়ে চাইছে, আতঙ্ক যেন গ্রাস না করে চার ধাম যাত্রায়। সেই লক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অনেক সহজ করা হয়েছে। উত্তরাখন্ড সরকার ঘোষণা করেছে এবার কোনও যাত্রীসংখ্যা সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না। পাশাপাশি অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের জন্য অনেক বেশি কাউন্টার খোলা হয়েছে হৃষিকেশে। আতঙ্ক কাটাতে যাত্রা শুরুর আগে থেকেই গোটা যাত্রাপথ মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজ্য আর্মড ফোর্স এবং আধা সামরিক বাহিনির সুরক্ষায়। হরিদ্বার, হৃষিকেশ থেকে রাজ্য সরকারের বাস অনেক বেশি রাখা হয়েছে। সবথেকে বেশি ভিড় কেদারনাথে হয়ে থাকে। তাই কেদারনাথের সুরক্ষা প্রটোকল খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকেও মনিটরিং করা হয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি নির্দেশ দিয়েছেন, হকার, অস্থায়ী চটি, অস্থায়ী খাবার দোকানের উপর কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। সেই মতো তল্লাশি চলছে। যাতে সন্দেহভাজন বহিরাগত কেউ চারধাম যাত্রায় থাকতে না পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সোমবার আধা সামরিক বাহিনীর কর্তাদের নির্দেশিকা দিয়েছে, চারধাম যাত্রাকে শুধু যে সুরক্ষিত করতে হবে তাই নয়, সম্পূর্ণ মসৃণ করতে হবে। অর্থাৎ কোনওপ্রকার যানজট অথবা ভিড়ে আটকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়।