সংবাদদাতা, কান্দি: বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন পঞ্চায়েত সদস্যকে বহিষ্কার করা হল। সেইসঙ্গে বহিষ্কার করা হল স্থানীয় তিন বিজেপি নেতাকেও। শনিবার রাতে খড়গ্রাম ব্লকের পদমকান্দি পঞ্চায়েতের এই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়েছে। সম্প্রতি ওই পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। এদিনের বহিষ্কার ঘিরে অনাস্থা পাশের ব্যাপারটি নিয়েও জটিলতা তৈরি হল বলেই স্থানীয়রা মনে করছেন।
প্রসঙ্গত, ওই পঞ্চায়েতের মোট সদস্য সংখ্যা ১৬। এর মধ্যে তৃণমূল ১০টি আসন পেয়ে বোর্ড গঠন করে। পঞ্চায়েত প্রধান হন তৃণমূলের শবনম ইয়াসমিন। অপরদিকে বিজেপি ৪টি, কংগ্রেস ১টি ও ১টি আসন পেয়েছিল নির্দল প্রার্থী। এরমধ্যে একজন তৃণমূল সদস্য মারা গিয়েছেন। গত ৮ জুন পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে ন’জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। এর মধ্যে অধিকাংশই বিজেপির সদস্য।
কিন্তু, শনিবার রাতে স্থানীয় সাবলদহ নেতাজি মোড়ে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি পথসভা করা হয়। ওই সভায় হাজির ছিলেন দলের রাজ্য নেতৃত্ব মনোজ সরকার সহ অন্যান্যরা। তিনিই বহিষ্কারের কথা জানান। মনোজবাবু বলেন, দল বিরোধী কার্যকলাপের জন্য বিজেপির তিনজন পঞ্চায়েত সদস্য ও তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হল। বহিষ্কৃত নুরজাহান বিবি, সোমা দলুই ও প্রবোধ মাল এই তিনজন পঞ্চায়েত সদস্য। আর পূর্ণচন্দ্র সাহা, হামিজুদ্দিন শেখ ও জহিরুদ্দিন শেখ নামে তিন বিজেপি নেতাকে দলের সমস্ত কাজকর্ম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। খড়গ্রাম-১ মণ্ডল সভাপতি দোলচাঁদ মাল বলেন, দলের নিয়মশৃঙ্খলা না মানায় ওই ছ’জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে বহিষ্কৃত তিন পঞ্চায়েত সদস্য শুধুমাত্র তৃণমূলের বিরোধিতা করার জন্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কারণ এবার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল যাকে প্রার্থী করেছিল, তা তাঁদের পছন্দ হয়নি। যে কারণে তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু, বিজেপি প্রার্থী জয়ের পর স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূল ছাড়া ওই তিন পঞ্চায়েত সদস্যর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
এদিকে ওই পঞ্চায়েতে পরবর্তীতে কে প্রধান হবেন তা নিয়ে বিজেপির অন্দরে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। বিজেপির পক্ষ থেকে যে মহিলার নাম পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে বলা হয়েছিল তা ওই তিন সদস্য মেনে নিতে পারছিলেন না। বহিষ্কৃত নুরজাহান বিবি বলেন, অনাস্থার পর বিজেপির পক্ষ থেকে প্রধান হিসাবে যে নামটি সামনে এসেছে তা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সেজন্য আমরা বিরোধিতা করেছিলাম। এমনকি আমাদের জোর করে গোপন আস্থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই বিরোধিতার জেরেই আমাদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে মনে করছি।
এবিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তফসিলি সেলের যুব মোর্চার সভাপতি আদিত্য মৌলিক বলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন পঞ্চায়েত সদস্য সহ কয়েকজন বিজেপি নেতা দলের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল। ওরা গোপনে বৈঠক করে প্যাঁচ খেলার চেষ্টা চালিয়েছে সেজন্য তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।