‘এই প্রধানমন্ত্রী ভারতের লজ্জা’, মোদিকে টার্গেট দিপকের
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশ-গণ্ডিতে আর সীমাবদ্ধ নয়। এবার সরাসরি নিশানায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ককরোচদেরই। কোনো রাখঢাক নয়। রবিবার অভিজিৎ দিপকের সাফ ঘোষণা, ‘কাওয়ার্ড! নরেন্দ্র মোদি দেশের লজ্জা। এমন ভীরু প্রধানমন্ত্রী দেশ আগে দেখেনি।’ এই আক্রমণের প্রেক্ষাপট একটাই—কার্যত জরুরি অবস্থা জারি করে শনিবার আন্দোলন দমনের চেষ্টা। এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টকেও পাশে পেয়ে যাওয়ায় তীব্রতা আরও বেড়েছে ককরোচদের। দিপকের আরও হুঁশিয়ারি, ‘আমাদের থামানো যাবে না। স্বেচ্ছাচারীদের শেষের শুরু। আমরা পুলিশের কাছে কোনো মুচলেকা দিইনি। ফের রাস্তায় নামব।’ তাঁর সুরেই আশুতোষের তোপ, ‘জ্ঞানেশ কুমার গদ্দার। তাই তাঁকে ইস্তফা দেওয়ানোর জন্য যদি জীবনভর জেলে থাকতে হয়... রাজি।’ সৌরভ দাসও থামেননি। বলেছেন, ‘দিল্লিকে যেভাবে দুর্গে পরিণত করে সরকার নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে, এতে একটা বিষয় স্পষ্ট—প্রাণভোমরা জ্ঞানেশ কুমার। তাই যত চেষ্টাই করো, রোখা যাবে না।’

Advertisement

বিমান থেকেই আটক, পরে গ্রেপ্তার অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস। আন্দোলনের সুর এভাবেই কাটতে চেয়েছিল দিল্লি পুলিশ। প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট। রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শর্ত সাপেক্ষে ছাড়া হয় তাঁদের। বলা হয়, আগামী এক বছর সিজেপি’র এই তিন শীর্ষ নেতা শান্তি বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো কাজে জড়াবে না। কিন্তু তারপরও সিজেপি বুঝিয়ে দিয়েছে, কোনো শর্তেই তাদের থামানো যাবে না। বরং বাড়বে আন্দোলনের আগুন। 
জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করার অনড় আন্দোলনের পাশাপাশি এবার যে জেন-জি’র টার্গেট মোদি-শাহ, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। আর সেই কারণেই ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে সিজেপি’র কাছে ‘মাথা নত’ করলেও এবার মচকাচ্ছে না মোদি সরকার। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার মতো পরিস্থিতি জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষেত্রে তৈরি হতে দিতে চায় না তারা। সেই কারণেই দিল্লিজুড়ে অঘোষিত কার্ফু, জরুরি অবস্থার পরিস্থিতি, ব্যাপক ধরপাকড়, আটক, মারধর। তা সত্ত্বেও একাধারে বিজেপি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’, অন্যদিকে সিজেপি দমছে না। বরং তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছে, আগামী দিনে ক্রমশ সরকার বিরোধী আন্দোলনের পারদ চড়বে। কারণ এবার অমিত শাহের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হতে পারে বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর। এমনকি অনশনে বসতে পারেন রাহুল গান্ধীও। শাহের ইস্তফার দাবি তোলার পথে সিজেপিও। কারণ, দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতায়। তাই পুলিশের বর্বরতার অভিযোগের দায় অমিত শাহকেই নিতে হবে বলে আওয়াজ তুলবে জেন জি। মুক্তি পাওয়ার পর রবিবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সাংবাদিক বৈঠকে সেই বার্তাই দিয়েছে তারা। ছিলেন সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং লিগাল টিমের প্রধান রত্না সিং। শনিবার পুলিশ যেভাবে তাঁদের আটক করেছিল, তাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেন তাঁরা। ফোন কেড়ে নিয়ে পুলিশ পরবর্তীকালে তাঁদের ফাঁসানোর মতো কিছু ঢুকিয়ে দিয়েছে বলেও আশঙ্কা সৌরভের। ‘অপহরণে’র অভিযোগ তুলেছেন ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিও। বিদেশি নাগরিকত্বের অভিযোগ উড়িয়ে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়েছেন তিনি। অভিযোগ করেছেন, যারা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের গায়ে ইউনিফর্ম ছিল না। এটা স্রেফ অপহরণ।
শনিবার পুলিশের আচরণকে ১৯৭৫ সালের  সঙ্গে তুলনা করেছে সিজেপি। আশুতোষ বলেন, ‘জরুরি অবস্থার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে বিজেপি সরকার। স্বাধীন ভারতে এমন পরিস্থিতি হয়নি। প্রশ্ন একটাই—জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে বিজেপি এত তৎপর কেন?’