Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বঙ্গে এই প্রথম ইভিএমে জিপিএস ট্র্যাকিং, দাবি কমিশনের লিংক চাইল সব রাজনৈতিক দল

কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ। অন্তত কোনো বুথে ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো অশান্তির ঘটনা নেই

বঙ্গে এই প্রথম ইভিএমে জিপিএস ট্র্যাকিং, দাবি কমিশনের লিংক চাইল সব রাজনৈতিক দল
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ। অন্তত কোনো বুথে ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো অশান্তির ঘটনা নেই। ভোট প্রক্রিয়া কোনোভাবে ব্যাহত হয়নি। যে কারণে এই দফায় কোনো বুথে পুনর্নির্বাচন হবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু প্রথম দফার ভোট মিটতেই ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তুলছে শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই। এমনকি এই বিষয়ে সরব হয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে এই প্রথম বাংলায় ইভিএমে জিপিএস ট্র্যাকার রয়েছে। ফলে কারচুপির কোনো জায়গা নেই। এমন দাবি করেছেন খোদ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আগে অন্যান্য রাজ্যে হত। এবার প্রথম বাংলায় ইভিএমে জিপিএস ট্র্যাকার রয়েছে। ফলে ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।’

Advertisement

আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। কলকাতা সহ একাধিক ‘হেভিওয়েট’ কেন্দ্রে ভোট রয়েছে। প্রথম দফার মতোই দ্বিতীয় দফাও যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেই লক্ষ্যে জেলাগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। শনিবার ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে  আরামবাগে যান তিনি। সেখানে সমস্ত রাজনৈতিক দল, পুলিশ অবজার্ভার, প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক সারেন মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক। আর সেই বৈঠক থেকে একাধিক ইস্যুতে কথা বলেন তিনি। ইভিএমে কারচুপি প্রসঙ্গে মনোজ আগরওয়াল জানান, এবারই প্রথম বাংলায় ইভিএমে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবহার করা হয়েছে। তাই কোনও অসুবিধা নেই। তবে রিজার্ভ ইভিএম, লাইট নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছিল। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 
শুধু তাই নয়, পুনর্নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘প্রতি মুহূর্তে যা অভিযোগ এসেছে, তার ভিডিও ফুটেজ আমরা খতিয়ে দেখেছি। তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আর তাই প্রথমদফায় কোনও রিপোলের প্রয়োজন হয়নি। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, আমরা আগেই জানিয়েছিলাম, বুথে কোনও অভিযোগ এলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার হবে কেন্দ্রীয়বাহিনীর। শুধু তাই নয়, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটার ছাড়া কেউ ঢুকতে পারেনি। ক্যামেরা ছিল সব বুথে। ফলে নাগরিকদের ভোট সুরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি। 
তবে জিপিএসের মাধ্যমে ইভিএমগুলিকে যেভাবে ট্র্যাকিং করা হচ্ছে, তার লিংক শুধুমাত্র কমিশনের কাছে রয়েছে। অর্থাৎ ইভিএম সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জিপিএসের মাধ্যমে শুধুমাত্র কমিশনই নজরদারি করতে পারবে। আর এই বিষয়টি নিয়েই দাবি জানিয়েছে সব রাজনৈতিক দল। জিপিএস ট্রাকিংয়ের লিংক যাতে রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া হয় সেই দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন। 
অন্যদিকে, প্রথম দফার মতই দ্বিতীয় দফাতেও নজিরবিহীন নিরাপত্তার আয়োজন করছে কমিশন। নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রথম দফায় নির্দিষ্ট বুথের বাইরে ও ভিতরে সিসি ক্যামেরা  লাগানো হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে শুধুমাত্র বুথে নয়, বুথে আসা-যাওয়ার রাস্তাতেও সিসি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে বেশি করে নজরদারি চালানো হবে। এই দফায় মোট ২ হাজার ২৩১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কলকাতায় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সবচেয়ে কম আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোট পরিচালনার কাজ দেখভালে নিযুক্ত করা হবে ১৪২ জন জেনারেল অবজার্ভার। ৯৫ জন পুলিশ অবজার্ভারও নিয়োগ করা হয়েছে।
এর মধ্যেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে একাধিক জেলায় ভোটকর্মীর তীব্র ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধান করতে প্রথম দফায় দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় সরকারি ও কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর ইউনিটের কর্মীদের দ্বিতীয় দফার জেলাগুলিতে পুনর্বিন্যাস করার নির্দেশ জারি করেছে মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তর। 
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির মধ্যে কর্মীদের তথ্য বিনিময় ও নিয়োগপত্র জারির কাজ ‘ইএমএমএস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, কর্মীদের বদলি ও নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দ্রুত নিয়োগপত্র জারি করে নির্দিষ্ট জেলায় রিপোর্ট করার নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ