নয়াদিল্লি: নেপাল-ভারত সীমান্ত বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী দাবি করলেও সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতায় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মানবে না ভারত। কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরার অঞ্চলের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে ভারত ও নেপালের মধ্যে। কিন্তু ভারত সাফ জানিয়েছে, এই জায়গাগুলি নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।
সম্প্রতি সীমান্ত ইস্যুতে মুখ খুলেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। জেন-জি প্রধানমন্ত্রীর দাবি, মসনদে বসার পর তিনি জানতে পারেন, ভারত যে শুধু নেপালের জমি দখল করেছে, এমনটা নয়। নেপালও ভারতের কিছু ভূখণ্ড দখল করেছে। এর পরেই সীমান্ত সমস্যা মেটাতে চীন ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনা চান তিনি। যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার কাঠমাণ্ডুকে কড়া বার্তা দিল নয়াদিল্লি। ভারত সাফ জানিয়েছে, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ের সময় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারত ও নেপালের মধ্যেকার সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়টি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দুই দেশ আলোচনা করবে। এবিষয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে কাঠমাণ্ডুর পার্লামেন্টে বালেন্দ্র শাহ জানান, ব্রিটিশরা ভারত ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। সেই জন্য এ সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে ব্রিটেনের হস্তক্ষেপ করা উচিত। বালেন্দ্রর এহেন মন্তব্যের প্রতিবাদে পথে নামে নেপালের ছাত্র-জনতা। সোমবার কাঠমাণ্ডুর মেইতিঘর মণ্ডলে জড়ো হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, বালেন্দ্র ‘দেশবিরোধী’ কথা বলছেন। তাঁর ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে বিক্ষোভকারী ও বিরোধীরা।
উল্লেখ্য, ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি এলাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। কয়েক বছর আগে এই এলাকাগুলিকে নেপালের অংশ হিসাবে দেখানো হয়েছে। কাঠমাণ্ডুর সেই দাবি উড়িয়ে দেয় ভারত।
এদিকে, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের উপর কড়া নজর রাখতে ‘শ্যাডো গভর্নমেন্ট’ গঠন করল প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস। জানা গিয়েছে, পরিষদীয় দলনেতা ভীষ্মরাজ আংদেম্বেকে ‘শ্যাডো প্রাইম মিনিস্টার’ হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন এই ‘শ্যাডো গভর্নমেন্ট’-এ একাধিক নেতা ‘শ্যাডো মিনিস্টার’ হিসাবে কাজ করবেন।