Bartaman Logo
২৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নির্বাচনের আগে চোর, পরে ‘ভালো তৃণমূল’? জনতার প্রশ্নে মুখ লুকোচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা

বারাসতে ভোটের পর বিজেপির কর্মীরা তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে নীরব। জনতার প্রশ্নে মুখ লুকোচ্ছেন বিজেপির নেতারা। বিস্তারিত পড়ুন।

নির্বাচনের আগে চোর, পরে ‘ভালো তৃণমূল’? জনতার প্রশ্নে মুখ লুকোচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা
  • ২৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভোটের আগে সারা রাজ্যের মতো বারাসত-বসিরহাটেও তৃণমূলের চুরি, দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ভোট মিটতেই সেই সুর যেন অনেকটাই মিইয়ে গিয়েছে! নির্বাচনি প্রচারে তৃণমূলের যেসব নেতার বিরুদ্ধে কাটমানি আর দুর্নীতির গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁদের বিরুদ্ধেই নীরব গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, এতদিনকার ‘দুর্নীতিবাজ’ তৃণমূল নেতারা বিজেপির অন্দরে এখন ‘ভালো তৃণমূল’-এর তকমা পেয়েছেন। তাই এই গেরুয়া শিবিরের এই নীরবতা। বিধানসভা ​ভোটের সময় প্রতিটি জনসভায় বিজেপি পালা করে হুঁশিয়ারি দিত, ক্ষমতায় এলেই চোরদের জেলের ভাত খাওয়ানো হবে বলে। বারাসত পুরসভার কাউন্সিলার থেকে শুরু করে বসিরহাটের প্রভাবশালী নেতা— কাউকেই রেয়াত করা হবে না। কিন্তু ভোট মিটতেই প্রতিশ্রুতি আলমারিতে বন্দি! অভিযুক্ত নেতারা বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক তৎপরতা তো দূরের কথা, কোনো জোরালো দাবিও আর শোনা যাচ্ছে না বিজেপি নেতাদের মুখে। ফলাফল ঘোষণার পর সপ্তাহখানেক ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বললেও এখন সেই বার্তা শীতঘুমে চলে গিয়েছে বলে আক্ষেপ শোনা যাচ্ছে বিজেপিরই একাধিক কর্মী-সমর্থকের মুখে। তাঁদের দাবি, বারাসতের একাধিক তৃণমূল নেতার জ্বালায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। তোলাবাজি থেকে ক্লাব দখল, কোনো কিছুই বাকি রাখেননি তাঁরা। কয়েকজন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির নেতারা সবটা জানার পরও নীরব কেন, এই প্রশ্নে ক্ষোভ বাড়ছে কর্মীদের মধ্যে। ​দলের এই ‘মৌনব্রত’ নিয়ে নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ঊর্ধ্বমুখী। 

Advertisement

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারাসতের এক বিজেপি কর্মী বলছিলেন, ‘আমরা মানুষের কাছে গিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোট চেয়েছিলাম। এখন সাধারণ মানুষ যখন সেইসব নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন, তখন মুখ লুকোনো ছাড়া উপায় থাকছে না।’ তাঁর আরও যুক্তি, এই জেলার বনগাঁয় তৃণমূলের একের পর এক নেতা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। কিন্তু বারাসতের ক্ষেত্রে দলের এই ‘মৌনব্রত’ কেন? একই প্রশ্ন বসিরহাটের বিজেপি কর্মীদেরও। এখন এই দুই মহকুমার মানুষের একটাই প্রশ্ন, ‘ভালো তৃণমূল’ হয়ে গেলেই কি সাত খুন মাফ? বিষয়টি নিয়ে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তথা বারাসতের নেতা তাপস মিত্র বলেন, ‘কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাই রেহাই পাবেন না। দেখতে থাকুন কী হয়।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ