নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিজেপিতে অনুপ্রবেশকারী ও সুযোগসন্ধানীদের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের পতাকা ব্যবহার করে দখলদারি, বেআইনি কারবারের চেষ্টা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি কোনো বিধায়ক বা সাংসদের নাম জড়ালেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতার লড়াইয়ের আগে সংগঠনের ভিত শক্ত করা এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এটাই বিজেপির নতুন বার্তা।
রবিবার হাবড়ার প্রফুল্লনগরে এক কর্মসূচিতে আসেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীকবাবু। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তাই হল বিভাজন বা দখলদারির রাজনীতি নয়। পশ্চিমবঙ্গকে হিংসামুক্ত করা। সেই লক্ষ্যেই দল চলবে। শুধু বিরোধী রাজনীতির সমালোচনাই নয়, এদিন সংগঠনের অন্দরেও কড়া বার্তা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, চার ঘণ্টার বিজেপি হয়ে যাওয়া একাংশ বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হাবড়া, অশোকনগর, পুরুলিয়া থেকে ডুয়ার্স—সর্বত্রই এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি তাঁর। এদের অধিকাংশই আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এতদিন তারা লুটপাট চালাত। এখন বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এরপরই শমীক ভট্টাচার্যের হুঁশিয়ারি এসব চলতে দেওয়া হবে না। রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে অতীতে পুলিশ-প্রশাসনের অপব্যবহার হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। শমীকবাবুর দাবি, আগে কিছু রাজনৈতিক নেতা নিজেদের কর্মসূচিতে অস্বাভাবিক সংখ্যক পুলিশ বাহিনী ব্যবহার করতেন, যার ফলে পুলিশ কর্মীদেরই নানা দুর্ভোগের মুখে পড়তে হত। পুলিশের কাছ থেকেও এই বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি আর থাকবে না।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর যুক্তি, এগুলি তৃণমূলের ২৫-৭৫ ভাগের হিসাবের গন্ডগোল। যে
অভুক্ত আছে, তার অতৃপ্ত আত্মাই আজ কথা বলছে। তাঁর পরিষ্কার দাবি, এসব ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই।