সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: প্রায় ৩৩০ বছর আগে জৌলুসের সঙ্গে গাজোলের নিত্যানন্দপুর জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে সেই পুজো চলছিল। কিন্তু ১৯৫৮ ও ১৯৫৯ দু’বছর জমিদার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে। বাড়ির প্রবীণরা একে একে প্রয়াত হন। বাড়িতে মহিলা থাকলেও পুজো আয়োজনে তাঁদের হিমশিম খেতে হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে পুজো একসময় বন্ধও হয়ে যায়।
কিন্তু ৬৮ বছর আগে কামাখ্যা থেকে এক সাধক নিত্যানন্দপুরের জমিদার বাড়ি এলে আলোড়ন পড়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন। ওই সাধক বাড়ির সদস্যদের পুজো বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে চান। জমিদার পরিবারকে ফের পুজো করাতে রাজি করান। সাধুর উপদেশে অল্প সময়ে মৃৎশিল্পী এনে, প্রতিমা গড়ে ১৯৬০ থেকে পুজো চালু হয়। ওই সাধু একমাস ধরে জমিদার বাড়িতে ছিলেন। তারপর থেকে জমিদার বাড়িতে আর দুর্গাপুজো বন্ধ হয়নি। এখনও রীতিনীতি মেনে পুরনো এই পুজো হয়ে আসছে।
পরিবারের অন্যতম সদস্য শিবেশকুমার সরকার বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষ গাজোলে ছিল না। ওই সময় বর্ধমান রাজ পরিবারের কিছু সম্পত্তি গাজোলে ছিল। সেসব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা এখানে চলে আসেন। মাঝে পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এক সাধক এসে পুজো শুরু করান।
জমিদারবাড়ির দুর্গা সাবেকি। একচালাতে দেবীর আরাধনা হয়। দুর্গার মাথার উপরে মহাদেব থাকেন। বলিপ্রথা নেই। বৈষ্ণবমতে দেবীর আরাধনা হয়। দেবীর নামে কিছু জমি রয়েছে। ঐতিহ্য ধরে রাখতে দেবোত্তর ট্রাস্ট করা হয়েছে।



