নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিজেপি সরকারের প্রথম পুজোয় রাজ্যবাসীকে কী চমক দেয় তা নিয়ে অনেকেরই নজর ছিল। মহালয়ায় ইডেনে মেগা আয়োজন, রাজ্যের সাত শহরে ‘মা আসছেন’ নামে দু’দিনের সরকারি অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু পুরদপ্তরের এক পদক্ষেপ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভার থেকে রেডরোড। কলকাতার রাস্তা নানা রঙে সেজে উঠছে। ড্রোন ভিউয়ে যা শহরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠছে। অনেকে প্রশংসা করছেন, অনেকে পথ নিরাপত্তা নিয়ে আপস করা হচ্ছে বলে সরব হয়েছে। রাস্তা রঙিন করার ব্যয় নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে। মঙ্গলবার নিজের বিধানসভা এলাকায় এই কটাক্ষের জবাব দিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর দপ্তরের কাজ নিয়ে প্রশংসা করার পর এদিন নেত্রীকে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যের যা কিছু ভালো করার উদ্যোগ নেওয়া হবে তাতেও ওদের আপত্তি, সমালোচনা। কলকাতার কয়েকটি রাস্তা নানা রঙে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এই পুজোর সময়ে এই রামধনু রাস্তা থাকলে খারাপ কী? ছ’মাস তো রংটা থাকবে। আর যাঁরা বলছেন, সরকার কেন এই কাজ করে টাকা অপচয় করল তাদের বলে রাখি, এই কাজ করতে কোনো সরকারি টাকা খরচ হয়নি। রঙের বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা তাদের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা সিএসআর স্কিমে বিনামূল্যে এই কাজ করে দিয়েছে।
মন্ত্রী এই কাজ কলকাতায় করেই থেমে থাকতে চাইছেন না। তিনি জানিয়েছেন, আসানসোলে রামধনু রাস্তা হবে। মূলত ভগৎ সিং মোড়কে কেন্দ্র করে এই রামধনু রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। ভগৎ সিং মোড় থেকে আসানসোল বাজার, জুবিলি মোড়, চিত্রা মোড় ও মনোজ সিনেমা হল মোড় পর্যন্ত চারদিকের রাস্তাই নানা রঙে সাজিয়ে তোলা হবে। পুজোয় এই রাস্তাগুলি আলোতে সাজিয়ে তোলার নির্দেশ পুরসভাকে দেন পুরমন্ত্রী। একইভাবে সেজে উঠেছে আসানসোলের বিএনআর সেতুও। ফুটপাত রঙিন করা হচ্ছে। আধুনিক বাতিস্তম্ভ বসানো হচ্ছে। এদিন মন্ত্রী একাধিক বৃহৎ রাস্তার কাজের শিলান্যাস করে। তারমধ্যে রয়েছে চিত্রা মোড় থেকে সাঁতা পর্যন্ত রাস্তা। আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে এই রাস্তাটি সম্পূর্ণরূপে সংস্কার করা হবে। একইভাবে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার কাজেরও শিলান্যাস করেন মন্ত্রী। যদিও তিনি জানিয়েছেন, পুজোর পরই দু’টি কাজ শুরু হবে।
এদিন দিল্লির আন্দোলন নিয়েও সরব হন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, ভোট চুরির প্রমাণ কোথায়? সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তাঁরা আবেদন করেছেন আন্দোলনস্থলে শৌচালয় কেন নেই। আসলে শত্রু দেশ আমাদের দেশকে দুর্বল করার জন্য এসব করাচ্ছে। বিরোধীরা তাদের ফাঁদে পা দিয়ে দেশের বদনাম করার, দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে।



