Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নশিপুর আখড়ার রুপোর রথ ঘিরে মানুষের আগ্রহ সীমাহীন

নশিপুর আখড়ার ২৫০ বছরের রথযাত্রা উৎসবের রুপোর রথকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ। রথের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া। বিস্তারিত পড়ুন।

নশিপুর আখড়ার রুপোর রথ ঘিরে মানুষের আগ্রহ সীমাহীন
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: ২৫০ বছরের বেশি প্রাচীন নশিপুর আখড়ার রথযাত্রাকে ঘিরে স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলাবাসীর আগ্রহ সীমাহীন। এই আখড়ার রথযাত্রার প্রধান আকর্ষণ রুপোর রথ।  রুপোর রথে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে দেখতে জেলা এবং বাইরে থেকেও বহু মানুষের সমাগম হয় নসিপুরে। সোজা ও উল্টো রথের দিন বিকেলে সোনার জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ চাপিয়ে রুপোর রথ রাস্তায় নামে। কড়া নিরাপত্তায় রথ পরিক্রমার পর সন্ধ্যার আগেই আখড়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। 

Advertisement

আখড়া কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আনুমানিক ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দে মোহন্ত লছমনদাস আচারী জাফরাগঞ্জ আখড়ার প্রতিষ্ঠা করেন। তবে আখড়ায় রথযাত্রা উৎসব শুরু হয় পরবর্তী মোহন্ত চতুর্ভুজদাস আচারীর সময়ে। তিনি দুটি কাঠের রথ তৈরি করে রথযাত্রা উৎসব শুরু করেন। সেই সময়ে রথের দিন আখড়া থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ধনকুবের জগৎ শেঠের বাড়িতে গিয়ে রথযাত্রা শেষ হত। জগৎ শেঠের বাড়িতে সাতদিন কাটিয়ে উল্টো রথের দিন বিকেলে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে নিয়ে আখড়ায় ফিরে আসত রথ। 
১৭৮৮ খ্রীষ্টাব্দে মোহন্ত গোপালদাস আচারীর সময় থেকে আখড়ার রথ উৎসব আরও বড় আকারে হতে শুরু হয়। তিনি আরও দুটি পিতলের রথ তৈরি করেন। চারটি রথেই নিম কাঠের জগন্নাথ, বলরাম  ও সুভদ্রা থাকতেন। আনুমানিক ১৮২৫ খ্রীষ্টাব্দে মোহন্ত ভগবানদাস আচারীর সময়ে রুপোর রথ চালু হয়। রাজস্থান থকে কারিগর নিয়ে এসে রুপোর রথ তৈরি করান। হাতির উপরে উপবিষ্ট মাহুত রথটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। রথের বাহন হাতি ও হাতির উপরে উপবিষ্ট মাহুত সোনার জলে পালিশ রুপো দিয়ে তৈরি। রথের দিন রুপোর রথে উপবিষ্ট হন সোনার জগন্নাথ, বলরাম  ও সুভদ্রা। জাফরাগঞ্জ আখড়ার রথযাত্রা উৎসবে রুপোর রথ দেখতে তৎকালীন সময়ে নবাব ও স্থানীয় জমিদার এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা আসতেন বলে জানা গিয়েছে। আখড়ার রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে সাতদিন ধরে নসিপুরে গ্রামীণ মেলা বসত। পরবর্তী সময়ে গঙ্গা ভাঙ্গনে নদী গর্ভে চলে যায় জগৎ শেঠের পুরনো বাড়ি। জগৎ শেঠের পুরনো বাড়িটি নদী গর্ভে চলে গেলেও প্রাচীন প্রথা মেনে আজও প্রতিবছর সোজা ও উল্টো রথের দিন রুপোর রথ সহ জাফরাগঞ্জ আখড়ার পাঁচটি রথ জগৎ শেঠের পুরনো বাড়ির সামনে একটি মাঠে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ায় এবং সন্ধ্যার আগেই আখড়ায় ফিরে আসে। 
এখন রথযাত্রা উপলক্ষে সাতদিন ধরে গ্রামীণ মেলা না বসলেও সোজা ও উল্টো রথের দিন মেলা বসে। আখড়ার বর্তমান মোহন্ত রাঘবদাস আচারী জানিয়েছেন, আষাঢ় মাসের দ্বিতীয়া তিথিতে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা উৎসবের মধ্য দিয়ে আখড়ার রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়। সেইসঙ্গে আখড়ায় থাকা কাঠের ও পিতলের রথগুলিও মেরামতি ও মাজা-ঘষার কাজ শুরু হয়।  সোজা রথের পাঁচদিন আগে শুরু হয় রুপোর রথটি ধুয়েমুছে  পরিস্কার করে তোলার কাজ। চাকা লাগানো লোহার পাটাতনের উপর প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার রুপোর রথটি বসানো থাকে। কড়া পুলিসি নিরাপত্তায় রুপোর রথ পথে নামে। রুপোর রথ দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন ছাড়াও বীরভূম, নদীয়া জেলা থেকেও অনেক মানুষ আসেন। একই সঙ্গে মোহন্ত রাঘবদাস আচারীর দাবি, রাজ্যের মধ্যে একমাত্র জাফরাগঞ্জ আখড়াতেই রুপোর রথ রয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ