Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষক আছে, ছাত্র নেই, জামবনীর স্কুলের ছাদে ধান শুকনো করেন স্থানীয় বাসিন্দারা

জামবনী ব্লকের প্রত্যন্ত গ্ৰাম মেঘরাজপুর। আদিবাসী পরিবারের বাস এখানে।  মেঘরাজপুর প্রাথমিক স্কুল বছর খানেক আগেও খুদে পড়ুয়াদের কলরবে মুখরিত থাকত।

শিক্ষক আছে, ছাত্র নেই, জামবনীর স্কুলের ছাদে ধান শুকনো করেন স্থানীয় বাসিন্দারা
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০২

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: জামবনী ব্লকের প্রত্যন্ত গ্ৰাম মেঘরাজপুর। আদিবাসী পরিবারের বাস এখানে।  মেঘরাজপুর প্রাথমিক স্কুল বছর খানেক আগেও খুদে পড়ুয়াদের কলরবে মুখরিত থাকত। কিন্তু পড়ুয়ারা এখন আর স্কুলে আসে না । স্কুলের টিআইসি নিয়ম করে স্কুলে এসে ফিরে যান।  মেঘরাজপুর গ্ৰামে বারো ঘর পরিবারের বাস। জামবনী থেকে বেলপাহাড়ী যাওয়ার রাস্তার পাশেই ওই স্কুল। গ্ৰামে ২০১৪ সালে স্কুলটি চালু হয়েছিল। গ্ৰামের ছোট ছেলে, মেয়েরা স্কুলে পড়াশোনা করত। এই স্কুলে গত বছরেও ১০-১২ জন পড়ুয়া ছিল। কিন্তু বর্তমানে অজ্ঞাত কোনো কারণে স্কুলে পড়ুয়াদের আসা বন্ধ হয়েছে। একতলা স্কুল ভবনের ৪টি শ্রেণিকক্ষ ও অফিস ঘরের তালা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। স্কুলের ছাদে যাওয়ার দরজাও হাট করে খোলা। গ্ৰামের বাসিন্দারা সেখানেই ধান শুকোতে দেন। শৌচালয়ে আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে। দরজা জানালা বিহীন মিড ডে মিলের রান্নার ঘর হেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের কাছে একবছর ধরে এই স্কুলের বন্ধ হওয়ার খবর নেই। স্কুলের টিচার ইনচার্জ লালচাঁদ মুর্মু অবশ্য বলেন, মেঘরাজপুর গ্ৰামে প্রি প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার মতো কোনো ছোট ছেলেমেয়েই নেই। পাশাপাশি গ্ৰামের তিনজন পড়ুয়ার স্কুলে অ্যাডমিশন আছে। যখন স্কুলে আসি তখন ওদের নিয়ে আসি। ওই তিন পড়ুয়া  না এলে ক্লাস হয় না। 

Advertisement

মিড মিলের সরকারি বরাদ্দ অর্থে রান্না হয় কি ? এই প্রশ্নের উত্তরে টিআইসি বলেন, অফিস ঘরে মাঝেমাঝে গ্যাসেই রান্না হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে স্লাইস কেকের প্যাকেট নিয়ে  তিনজন পড়ুয়াকে  দেওয়া হয়। গত নভেম্বরে একজন শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। এখন একাই স্কুলে আসি। 
গ্ৰামের বাসিন্দা ক্ষুদিরাম সরেন বলেন, একবছর ধরে স্কুলটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। টিআইসি স্কুলে এসে ঘুরে যান।স্কুল ঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে। 
ঝাড়গ্রাম জেলা প্রাথমিকের ডি আই অজয় মহাপাত্রর কথায়, স্কুল কেন বন্ধ হয়ে পড়ে আছে সেটা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল দত্ত বলেন, সদ্য দায়িত্ব পেয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ করা হবে।   নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ