নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ও আন্দুল রোডের মাঝখানে অবস্থান দক্ষিণ হাওড়ার মৌখালি হালদারপাড়ার। শহরের এত কাছে হলেও সামান্যতম নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত এই এলাকার কয়েকশো পরিবার। রেললাইন ও নিকাশি খালের কারণে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে হালদারপাড়া। পাকা রাস্তা, নিরাপত্তা ও পানীয় জলের দাবিতে স্থানীয়রা আন্দোলন করছেন প্রায় ৫০ বছর ধরে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি। এবার রাজ্যে পালাবদলের পর সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা তাঁদের। শুক্রবার ওই এলাকা পরিদর্শনে যায় জেলা প্রশাসন, রেল ও সেচদপ্তর। সঙ্গে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতারাও।
হাওড়া পুরসভার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে হালদারপাড়া। এই অঞ্চলে ঢোকার নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা নেই। ফলে হাওড়া-আমতা শাখার রেল ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয় বাসিন্দাদের। স্কুলপড়ুয়াদেরও প্রতিদিন বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ওই বিপজ্জনক রেল ব্রিজ পেরিয়ে স্কুলে যেতে হয়। বড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় ঘিরে থাকে সকলকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতে একাধিকবার ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণহানি হয়েছে। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্ট্রেচার বা ভ্যানে তুলে ওই রেল ব্রিজ পেরিয়ে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে। কারও মৃত্যু হলেও দেহ কাঁধে করে রেললাইন পার করতে হয়। বর্ষার সময়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাঁচারাস্তা ও জল জমার কারণে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে হালদারপাড়া।
শুক্রবার সমস্যা দেখতে সরকারি আধিকারিকরা এলাকা ঘুরে দেখেন। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। বিকল্প রাস্তা বা সংযোগ সেতু তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন। অনিল রায়, সুমন বাঙাল, গুরুপদ জানা, তাপস দত্ত, গোবিন্দ জানা, সুশান্ত বেড়া, মন্টু পাত্র নামে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিরা শুধুই আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন। কোনো কাজই হয়নি। নিকাশি খালের উপর সেতু তৈরি হলে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে। এর পাশাপাশি পাকা রাস্তা ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।