Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং শুরু, শূন্যপদের চেয়ে একাধিক বিষয়েই যোগ্য প্রার্থী কম

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে স্কুল সার্ভিস কমিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কাউন্সেলিং শুরু হল মঙ্গলবার

একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং শুরু, শূন্যপদের চেয়ে একাধিক বিষয়েই যোগ্য প্রার্থী কম
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:০২
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে স্কুল সার্ভিস কমিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কাউন্সেলিং শুরু হল মঙ্গলবার। সুপারিশপত্রও দেওয়া হল প্রায় ২০০ প্রার্থীকে। দীর্ঘদিন বাদে এই স্তরে শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে আশাবাদী চাকরিপ্রার্থী এবং স্কুলগুলি। স্কুলে শিক্ষকের অভাব যেমন মিটতে চলেছে, তেমনই চাকরি পেতে চলেছেন প্রায় সাড়ে ১২ হাজার প্রার্থী। এঁদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছিলেন। তবে, প্রথম দফার কাউন্সেলিংয়ে শূন্যপদ এবং প্রার্থীর হিসেব যা বলছে, তাতে বাস্তবে সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকরা।

Advertisement

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের সংগঠন এপিজিটিডব্লুএ-র সচিব চন্দন গড়াই বলেন, ‘কয়েকটি চিত্র বেশ উদ্বেগজনক। সব মিডিয়াম মিলিয়ে অ্যাকাউন্টেন্সিতে প্রার্থী রয়েছেন ৮৭ জন। আর শিক্ষক-শিক্ষিকা মিলিয়ে শূন্যপদ রয়েছে ১৬৪টি। ফিজিক্যাল এডুকেশনে শূন্যপদ রয়েছে ১৬টি। প্রার্থী রয়েছেন মাত্র ১০ জন। মিউজিক বিষয়ে শূন্যপদ রয়েছে ৩২টি। প্রার্থী রয়েছেন ২০ জন। কমার্সের অন্যান্য বিষয়ে সব মিলিয়ে শূন্যপদ রয়েছে ৬২২টি। এদিকে প্রার্থী রয়েছেন ৩৪০ জন। ফলে স্পষ্ট যে প্রয়োজনীয় শূন্যপদ পূরণ হবে না। যেসব স্কুলে শিক্ষক নেই, তারাও শিক্ষক পাবে না।’
এদিকে, শূন্যপদ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বাস্তব ছবি মানা হয়নি বলে দাবি শিক্ষকদের একাংশের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনগাঁর একটি স্কুলের শিক্ষক জানান, কমার্স গ্রামবাংলার স্কুলে প্রায় উঠে যেতে বসেছে। শিক্ষক রয়েছেন, অথচ ছাত্রছাত্রী নেই। উচ্চ মাধ্যমিকের দিকে চোখ রাখলেই দেখা যায়, কমার্সের পরীক্ষার্থী ৩০ হাজারের ঘরে ওঠানামা করে। মোট সাত-সাড়ে সাত লক্ষ পরীক্ষার্থীর তুলনায় তা কিছুই নয়। অথচ, বহু বছর ধরে কোনো স্কুলে কমার্স চালু থাকায় সেখানে অ্যাকাউন্টেন্সি এবং অন্য বিষয়গুলির শিক্ষক শূন্যপদ স্বাভাবিক নিয়মেই তৈরি হয়। পড়ুয়ার অভাবে তাঁরা অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে বাধ্য হন। তাঁরা উদ্বৃত্ত শিক্ষক হিসেবেই গণ্য হবেন নিজ নিজ স্কুলে। তাই শূন্যপদের প্রায়র পারমিশন (পিপি) দেখে নয়, ছাত্রসংখ্যা এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে শূন্যপদ তৈরি হওয়া উচিত বলেই দাবি শিক্ষকদের। সেই তুলনায় কম্পিউটার সায়েন্স এবং যুগোপযোগী বিষয়গুলির জন্য আরও শূন্যপদ বাড়ানো উচিত ছিল। নতুন শূন্যপদ সৃষ্টি করে আরও বেশি স্কুলে সেগুলি চালু করা উচিত ছিল শিক্ষাদপ্তরের।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ফিজিক্যাল এডুকেশনের ক্ষেত্রে। একাদশ-দ্বাদশ স্তরে এই পদটি নতুন। উচ্চ প্রাথমিকে যাঁরা এই বিষয়ের শিক্ষক, তাঁরা অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ ১০ নম্বর পাননি। শুধু নরমাল সেকশনের শিক্ষকরা এই নম্বর পেয়েছেন। তাই যোগ্য প্রার্থী এসে দাঁড়িয়েছে ১০-এ । আর পরের তালিকা থেকেও কাউকে ডাকা হয়নি। তার মধ্যে আবার কেউ কেউ ইন্টারভিউ এবং ভেরিফিকেশনে উপস্থিত হননি। এই বিষয়টি যে কোনো স্ট্রিমের ছাত্রছাত্রীরাই এখন নিতে পারে। তা সত্ত্বেও শিক্ষকের সংখ্যা দশের মধ্যে থাকায় তাতে কার্যত কোনো লাভ হল না বলেই মনে করছেন শিক্ষকরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ