সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সাধারণত দুর্গাপুজো বা কালীপুজোতেই থিমের ছড়াছড়ি দেখা যায়। এবার রামপুরহাটে রথযাত্রাতেও অভিনব থিম দেখা যেতে চলেছে। শহরে ইসকন পরিচালিত নামহট্ট শ্রীধাম মায়াপুরের রথযাত্রায় প্রাচীন ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার এই অপূর্ব মেলবন্ধন থাকছে। রামপুরহাট পুরসভার মুক্তমঞ্চে ইসকন নামহট্টের উদ্যোগে পুরীর জগন্নাথদেবের আদি ও রহস্যময় রূপ ‘নীলমাধব’ তুলে ধরা হবে। যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
পুরাণ অনুযায়ী, জগন্নাথ রূপে প্রকাশের আগে ওড়িশার নীলগিরি পর্বতে শবর উপজাতির প্রধান বিশ্বাবসুর দ্বারা সবার অলক্ষ্যে পূজিত হতেন শ্রী নীলমাধব। পরে সত্যযুগে মালবরাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন এই নীলমণির বিগ্রহের সন্ধান পান। পরবর্তীতে নীলমাধব অন্তর্হিত হন ও নিমকাঠ বা দারুব্রহ্ম রূপে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা বিগ্রহে আত্মপ্রকাশ করেন। ওড়িশার সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত জগন্নাথদেবের সেই সুপ্রাচীন রূপ এবার রামপুরহাটের রথযাত্রার মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলছে ইসকন নামহট্ট।
উৎসব প্রাঙ্গণে এখন জঙ্গলে ঘেরা নীলমাধব পাহাড় ও গুহার ছবি ফুটিয়ে তোলার কাজ চলছে। উদ্যোক্তারা জানান, পাহাড়ের গা বেয়ে কৃত্রিম ঝর্ণা নেমে আসবে। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশেষ আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে। রথ উৎসব ঘিরে মণ্ডপ চত্বরে মেলাও বসছে।
রথযাত্রা কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ ঘটক বলেন, এবার উৎসবের বাজেট প্রায় ৩০লক্ষ টাকা। উৎসবের সাতদিন ধরে মণ্ডপ চত্বরে বিশেষ আরতি ও হরিনাম সংকীর্তন হবে। প্রতিদিন প্রায় দু’হাজার ভক্তকে মহাপ্রসাদ বিলি করা হবে। প্রতি পাতার প্রসাদ পিছু প্রায় ২০০টাকা খরচ ধরা হয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানান, নবীন প্রজন্মের কাছে জগন্নাথদেবের আদি ইতিহাস ও সনাতন সংস্কৃতির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের উদ্দেশ্য। রথযাত্রায় আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি তার সুপ্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তারা যাতে জানতে পারে, সেকারণেই রামপুরহাটে জগন্নাথদেবের ‘মাসির বাড়ি’র মণ্ডপসজ্জা এই থিমের আদলে করা হচ্ছে। ইসকন নামহট্ট কর্তৃপক্ষের আশা, এই রথযাত্রা দেখতে রামপুরহাটের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও বহু ভক্তের সমাগম হবে। -নিজস্ব চিত্র