নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপের স্ট্র্যাকচারাল সার্টিফিকেট কোথায়? বিপর্যয় তদন্তে নেমে যে সমস্ত অনিয়মের তথ্য সামনে আসছে, তাতে স্ট্র্যাকচারাল স্টেবিলিটি সার্টিফিকেট প্রসঙ্গটি নতুন মাত্রা এনেছে। সেই সার্টিফিকেটের খোঁজ শুরু করেছে মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে লালবাজারের গঠিত সিট। সূত্রের খবর, ওই সার্টিফিকেট ছাড়াই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল চোরবাগান পুজো কমিটিকে। এখানেই উঠছে প্রশ্ন। বড় কোনও প্রভাবশালীর হাত নাকি, সবটাই ম্যানেজ করা হয়েছে? তদন্তকারীরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে মণ্ডপ ও আশপাশের ৩২টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে ১৬টি থেকে কোনো ফুটেজ না মেলায়। সেগুলি খারাপ থাকায় রেকর্ডিংই হয়নি। কেন স্ট্রাকচারাল সার্টিফিকেট নেই? খারাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছিল, নাকি বসানোর পর তা খারাপ হয়েছিল? এই ধরনের একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত সিট। এদিকে মণ্ডপের নকশা থেকে শুরু করে গোটা পরিকল্পনা কী ছিল তা জানতে চোরবাগানের থিম শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার ডেকে পাঠিয়েছে লালবাজার। পাশাপাশি সোমবারই তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান রেকর্ড করেছেন তদন্তকারীরা। এরই পাশাপাশি হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বাধীন স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম এদিন মহাকরণে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। সিট প্রধান জানিয়েছেন, আগামী শনিবার থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করা হবে।
পুজো আয়োজনের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী সরকারি নির্দেশিকা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজারের সিট। সিট জেনেছে, প্যান্ডেলের উচ্চতা ছিল দু’তলা বাড়ির সমান। সরকারি নির্দেশিকা দেখেই মণ্ডপের স্ট্র্যাকচারার স্টেবিলিটি সার্টিফিকেটের বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেন তদন্তকারীরা। নিয়ম বলছে, ওই উচ্চতার প্যান্ডেল হলে এই সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে পুজো কমিটিকে। তা না হলে, অন্তত ডেকরেটরের ডিক্লারেশন। তাতে উল্লেখ করতে হয়, মণ্ডপের কাঠামো কোন উপাদান দিয়ে তৈরি, এন্ট্রি-এক্সিট ঠিক কতটা চওড়া, ইমার্জেন্সি এক্সিট কতগুলি, স্পাইরাল স্লোপিং হলে একে অন্যের উপর তা হেলে পড়বে না ইত্যাদি বিষয়। তদন্তে উঠে আসছে, স্টেবিলিটি সার্টিফিকেট তো বটেই, এই ধরনের কোনো তথ্যও পুজো কমিটি জমা করেনি। উল্লেখ করা হয়নি সাইট ইনচার্জের নামও। অর্থাৎ কোনো কিছু হলে দায়িত্ব যাতে তাদের ঘাড়ে না বর্তায়, সেই রাস্তা তৈরি করে রেখেছিল পুজো কমিটি। কিন্তু যৌথ পরিদর্শনে যাওয়া দলের (পুলিশ, দমকল, কেএমসি ও সিএইএসসি) এই বিষয়গুলি কেন নজরে এল না, তা নিয়ে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সিট।
তবে সিটের তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে বাদ যাচ্ছে না শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালের ভূমিকা। তিনি প্যান্ডেলের কী নকশা করেছিলেন, কী ধরনের লাইট ব্যবহার করতে বলেছিলেন, এক্সিট-এন্ট্রি পয়েন্ট কত ফুটের রাখতে বলেছিলেন এই সংক্রান্ত বিষয় জানতেই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে লালবাজারে। যদিও শিল্পীর দাবি, এব্যাপারে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, শিল্পীর উপর প্রভাব খাটান পুজো উদ্যেক্তারা। হেপাজতে থাকা অভিযুক্তরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, পুজো কমিটির বড়রা শিল্পীকে বলেছিলেন, গেট ছোট করতে। আর তাতেই নকশার সঙ্গে ফারাক।



