Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সারাদিনই কেটে যাচ্ছে এফিডেভিটের লাইনে,ভোটাধিকার হারানোর ভয়ে সরকারি অফিসে ভিড়

নিজভূমে পরবাসী হওয়ার আতঙ্ক! তাই নির্বাচন কমিশনের নোটিস পেতেই শিলিগুড়ি মহকুমা প্রশাসনিক ভবনের এফিডেভিট বিভাগে ভিড় ভোটারদের।

সারাদিনই কেটে যাচ্ছে এফিডেভিটের লাইনে,ভোটাধিকার হারানোর ভয়ে সরকারি অফিসে ভিড়
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: নিজভূমে পরবাসী হওয়ার আতঙ্ক! তাই নির্বাচন কমিশনের নোটিস পেতেই শিলিগুড়ি মহকুমা প্রশাসনিক ভবনের এফিডেভিট বিভাগে ভিড় ভোটারদের। বৃহস্পতিবার নাম সংশোধনের সেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন যুবক-যুবতী থেকে শিশু কোলে গৃহবধূ, মাঝবয়সি পুরুষ থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। তাঁদের কেউ ফাঁসিদেওয়া, কেউ নকশালবাড়ি, আবার কেউ খড়িবাড়ির বাসিন্দা। তাঁদের বক্তব্য, ভোটাধিকার রক্ষা করতেই নাম সংশোধনের জন্য এখানে দিনভর হত্যে দিয়ে পড়ে আছি। এতে যাতায়াতে খরচ ৫০০ টাকা হলেও আয় শূন্য! এনিয়েই কমিশনের কাছে তাঁদের প্রশ্ন, একদিনের কর্মদিবস নষ্ট। এখন দৈনিক হাজিরার টাকা দেবে কে?

Advertisement

এদিন মহকুমা প্রশাসনিক ভবনের আসা ওই ভোটারদের মধ্যে মহম্মদ ইজাল আলি ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মুড়িখাওয়ার বাসিন্দা। তিনি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। তিনি বলেন, বাবার আসল নাম মহম্মদ আসরু। ভোটার তালিকায় বাবার নাম মহম্মদ আসরোদ্দিন। এজন্য নির্বাচন কমিশন নোটিস পাঠিয়েছে। তাই এফিডেভিটের মাধ্যমে বাবার নাম সংশোধন করতে এসেছি। এজন্য মহুরি ও আইনজীবী ধরতে হয়েছে। এতে খরচ হবে হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। ভোটাধিকার রক্ষার জন্যই এই লাইনে দাঁড়িয়েছি।

লাইনে দাঁড়ানো নকশালবাড়ির বাসিন্দা কমল সরকার দিনমজুর। বিকেল ৩টা নাগাদ তিনি বলেন, ভোটারকার্ডে বাবার নামের বানানে ত্রুটি রয়েছে। তা সংশোধন করতেই সকাল ৯টা নাগাদ এখানে এসেছি। মুহুরির মাধ্যমে স্ট্যাম্প পেপারে বয়ান লিখে আবেদনও করেছি। কখন বাড়ি ফিরব বুঝতে পারছি না। এখানেই ৭০ বছরের বাবাকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফাঁসিদেওয়ার মুড়িখাওয়ার আনারস চাষি মমতাজ আলম। তিনি বলেন, ঠাকুরদার আসল নাম হেরাবক্স। ভোটারকার্ডে ঠাকুরদার ডাক নাম ঘুসরু আছে। এজন্য বাবা মহম্মদ নিজামুদ্দিনকে নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। ঠাকুরদার নাম ঠিক করতেই রেশনকার্ড, আধারকার্ড, প্যানকার্ড নিয়ে মহুরির মাধ্যমে এখানে আবেদন করেছি।

একই অবস্থা মুড়িখাওয়ার বৃদ্ধ মহম্মদ তবিরুদ্দিন ও তাঁর রাজমিস্ত্রি ছেলে মহম্মদ বরজান আলি, চটহাটের পশ্চিম বান্দঝুলির মহম্মদ খমিজ, খড়িবাড়ির গৃহবধূ পুজা ছেত্রি, মাটিগাড়ার দীপক বর্মনদের। এঁদের অধিকাংশ সকাল ৬টায় যাবতীয় নথি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। প্রথমে মুহুরি ধরে নোটারিতে গিয়ে হলফনামা তৈরি করেন। পরে তা মহকুমা প্রশাসনের এগজিকিউটিভ কোর্টে জমা দেন। দুপুরে হোটেলে মধ্যাহ্নভোজ সারেন।

অধিকাংশের বক্তব্য, দৈনিক মজুরির কাজের সঙ্গে যুক্ত। কমিশনের হিয়ারিংয়ের নোটিস পেয়ে নাম সংশোধন করতে কাজ বন্ধ করে এখানে এসেছি। এতে খরচ হয়েছে ৫০০ টাকা। কিন্তু, একটি কাজের দিন নষ্ট হল। হিয়ারিংয়ের জন্য আরও একদিন নষ্ট হবে। আমাদের চলবে কী করে? হাজিরার টাকা কে দেবে? • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ