


বেঙ্গালুরু: বিরাটদের আইপিএল জয়ের উৎসব বদলে গেল বিষাদে। চ্যাম্পিয়নদের দেখতে এসে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন ১১জন ক্রিকেটপ্রেমী। আহতের সংখ্যা শতাধিক। স্বাভাবিকভাবেই বুধবারের মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশ্নের মুখে কর্ণাটক সরকার।
২০০৮ সালে শুরু আইপিএল। মুম্বই ও চেন্নাই ট্রফি জিতেছে পাঁচবার করে। তিনবার কলকাতা। কিন্তু তাদের সেলিব্রেশনে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। ২০১২ সালে নাইটদের প্রথম খেতাব জয়ের পর কলকাতার রাজপথে উপচে পড়েছিল ভিড়। প্রশাসনের তৎপরতায় নাইটদের বিজয়োৎসব হয়েছিল সুশৃঙ্খলভাবে। গত বছর টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের ভিকট্রি প্যারেডেও পা মিলিয়ে ছিলেন লক্ষাধিক জনতা। কলকাতা কিংবা মুম্বই পারলেও, ব্যর্থ বেঙ্গালুরু পুলিস। তাদের ভুলে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে ৪ জুন, ২০২৫— কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবেই লেখা থাকবে।
ট্রফি হাতে ঘরে ফিরছেন চ্যাম্পিয়নরা। তাঁদের দেখার জন্য হাজার হাজার সমর্থকের ভিড় উপচে পড়বে রাজপথে, এটাই স্বাভাবিক। সেই মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল প্রশাসনের। তাহলে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত। প্রিয় ক্রিকেটারকে একবার চোখের দেখা দেখতে এসে যে এতগুলি তাজা প্রাণ ঝরে যাবে, তা কল্পনারও অতীত।
বিশেষ বিমানে দুপুর দেড়টায় আমেদাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু পৌঁছান চ্যাম্পিয়নরা। তাঁদের স্বাগত জানান কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। তিনি কোহলির হাতে তুলে দেন আরসিবি এবং কর্ণাটকের পতাকা। তারপর চ্যাম্পিয়নরা পৌঁছান বিধান সৌধে। সেখানে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ছাড়াও বহু নেতা-মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে। ভিড় উপচে পড়েছিল সভাস্থলের বাইরে। পরিস্থিতি যে ক্রমশ বেগতিক হচ্ছে, তা বুঝতে পেরে কোহলিদের রাজপথে ভিকট্রি প্যারেড বাতিল করা হয়। প্রথমে ঠিক ছিল বিধান সৌধ থেকে হুডখোলা বাসে কোহলি, পাতিদারদের নিয়ে যাওয়া হবে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। কিন্তু ভিড় নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিস কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত টিম বাসেই স্টেডিয়ামে পৌঁছান ক্রিকেটাররা। কোনওক্রমে ঠেলেঠুলে চ্যাম্পিয়নদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয় ভিতরে। বন্ধ করে দেওয়া মেইন গেট। কোহলিদের দেখার জন্য আট থেকে আশি— সকলেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন স্টেডিয়ামের মূল ফটকে। অনেকেই ব্যারিকেড টপকে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে যাচ্ছে দেখে, পুলিস মৃদু লাঠিচার্জ করে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। ফলে হুড়োহুড়িতে অনেকে মাটিতে পড়ে যান। আহতদের চ্যাংদোলা করে, শিশুদের কোলে নিয়ে অনেকেই চেষ্টা করেন হাসপাতালে পৌঁছতে। দেওয়া হস সিপিআর। প্রথমে জানা যায়, মারা গিয়েছেন তিন জন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হল, বাইরে যখন মৃত্যুমিছিল, তখন স্টেডিয়ামের ভিতরে চলল বিজয়োৎসব। নাচে-গানে বিরাট উন্মাদনার ঢেউ বয়ে গেল গ্যালারিতে। আর তাতেই তীব্র সমালোচনার মুখে চ্যাম্পিয়নরা। কাঁটার মুকুট হয়ে রইল কোহলিদের ঐতিহাসিক সাফল্য। প্রশ্ন উঠছে, কেন বন্ধ রাখা হল না সেলিব্রেশন? তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘স্টেডিয়ামের বাইরের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানত না আরসিবি কর্তৃপক্ষ। তারা জানার পরেই অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করা হয়।’ তাতেও অবশ্য বিতর্ক থামছে না।
এদিকে, আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল বলেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক! তবে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরের ঘটনা সম্পর্কে আরসিবি কর্তৃপক্ষ কিছু জানত না। বিষয়টি জানার পরেই কর্তারা অনুষ্ঠান ছোট করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমরাও বিজয়উত্সব বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। কর্ণাটক সরকারের কাছে পরিস্থিতির খবর ছিল কিনা, বলতে পারব না।’