Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তস্য গলি দিয়ে হেঁটেই মানুষের দরজায় দরজায় ঘাসফুল প্রার্থী, জীবনের প্রথম ভোটেই জিতবেন শামিম আহমেদ, আশায় তৃণমূল নেতৃত্ব

তিনি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডায়মন্ডহারবারের পর্যবেক্ষক। পরে দেখতে দেওয়া হয় মহেশতলা ও মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রও।

তস্য গলি দিয়ে হেঁটেই মানুষের  দরজায় দরজায় ঘাসফুল প্রার্থী, জীবনের প্রথম ভোটেই জিতবেন শামিম আহমেদ, আশায় তৃণমূল নেতৃত্ব
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, মগরাহাট: তিনি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডায়মন্ডহারবারের পর্যবেক্ষক। পরে দেখতে দেওয়া হয় মহেশতলা ও মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রও। সেই শামিম আহমেদ এবার মগরাহাট পশ্চিমে তৃণমূলের প্রার্থী। ভোটের ময়দানে এবারই তাঁর অভিষেক। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের নবীন-প্রবীণ সবাইকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে গ্রামে গ্রামে চষে বেড়াচ্ছেন এই তরুণ তুর্কি। সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁকে ঘিরে যেমন সাড়া মিলছে, তাতে তৃণমূল কর্মীরা নিশ্চিত, এবারও জয়ের মুকুট উঠছে তাঁদের নেতার মাথাতেই।

Advertisement

এখানে প্রার্থী না দিয়ে তাদের জোটসঙ্গী আইএসএফকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বামেরা। আর বিজেপি এখানকার এক ভূমিপুত্রকে টিকিট দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই বলছে, গেরুয়া শিবির এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ভাইজানের দলের উপরই। কারণ সংখ্যালঘু ভোটে আইএসএফ থাবা বসাতে পারলে বিজেপিরই সুবিধা হতে পারে। যদিও তাতে খুব একটা আমল দিচ্ছেন না তৃণমূল প্রার্থী। রাস্তাঘাট খারাপ, যানজট, বেহাল স্বাস্থ্য নিয়ে বিরোধীদের হাজারো অভিযোগ। প্রচারে সেসব সমাধানের আশ্বাস দিয়ে চলেছেন তৃণমূলের এই নবাগত প্রার্থী।
উস্তি, লক্ষ্মীকান্তপুর, উত্তরকুসুম পঞ্চায়েতের কারবালায় সেতু নির্মাণ থেকে বাণেশ্বরপুর ব্লক হাসপাতালকে গ্রামীণ হাসপাতালে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এনিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবও দিচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী। ২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা তিনবার এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হয়েছেন তৃণমূলের গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। তিনি এবার টিকিট না পাওয়ায় স্থানীয় স্তরে বেশ কিছু দাবিদার উঠে এসেছিল প্রার্থী হওয়ার জন্য। শেষে শামিমকেই এই সিটে দাঁড় করানো হয়। নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দলীয় কর্মীদের নিয়ে কর্মিসভা থেকে শুরু করে ভোটারদের কাছে টানার কৌশল নিয়ে বৈঠক করছেন তিনি। বড় বড় রোড শো কিংবা মিছিল নয়, পায়ে হেঁটে তস্য গলি দিয়ে একেবারে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন শামিম।
বিগত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি এবং আইএসএফ ভালো ভোট পেয়েছিল। বলা ভালো, বিজেপির ভোট অনেকটাই বেড়েছে। তাই এবার তৃণমূলের ভোটে থাবা বসাতে মরিয়া উভয়দলই। যদিও আইএসএফ প্রার্থী আব্দুল আজিজ আল হাসান বলেন, ভোটার কারোও একার হয় না। মানুষ যাকে মনে করবে, তাঁকেই ভোট দেবে। বিজেপি প্রার্থী গৌরসুন্দর ঘোষ ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদানের আরজি জানিয়েছেন। তবে শামিমের কথায়, বিরোধীরা কেউ কোনো ফ্যাক্টর হবে না এখানে। মানুষ আসলে উন্নয়নের সঙ্গে আছে।
পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও এই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিধায়ক প্রবীণ হলেও তিনি টিকিট না পাওয়ায় এক শ্রেণির মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছিল। তার প্রতিফলন যাতে নতুন প্রার্থীর ভোটপ্রাপ্তিতে না পড়ে, সেটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীদের। শামিমের বক্তব্য, বর্তমান বিধায়কের ভাই, ছেলে সবাই আমার সঙ্গে প্রচারে নেমেছেন জোরকদমে। ফলে কোনো অসুবিধে হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ