নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সফল স্ব-গণনার পর এবার সেন্সাসের হাউস লিস্টিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। এই পর্বে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে যাবেন ইনিউমারেটর বা সমীক্ষক বা গণনাকারীরা। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের কেউ বাড়িতে না-থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সোমবার আশ্বস্ত করেছে সেন্সাস অব ইন্ডিয়া। কারণ, নিতান্ত কেউ বাড়িতে না-থাকলে সমীক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর সেঁটে দেওয়া হবে ওই বাড়ির দরজায়। তাতেও সমীক্ষকের নাগাল না পেলে ১৮৫৫ হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলেই জানিয়ে দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট সমীক্ষকের নাম ও ফোন নম্বর।
সোমবার বিধাননগরে ডিরেক্টরেট অব সেন্সাস অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা নিখিল পবন কল্যাণ। তিনি জানান, এরাজ্যে ৫৩ লক্ষ বাড়ি স্ব-গণনায় অংশ নিয়েছে। দেশের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ। এজন্য পশ্চিমবঙ্গবাসী এবং রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ। তবে এই ৫৩ লক্ষের মধ্যে ৪৯ লক্ষ স্ব-গণনায় সফলভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে যাঁদের নথিভুক্তি বাকি, তাঁদেরও দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ, সব বাড়িতেই যাবেন সমীক্ষকরা। প্রয়োজনে দু-তিনবারও যাবেন তাঁরা। তারপরেও বাড়িতে কাউকে না পেলে দরজায় ফোন নম্বর সেঁটে দেওয়া হবে। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই গৃহশুমারি বা হাউস লিস্টিংয়ের কাজ। তারপর শুরু হবে জনসংখ্যা গণনা বা পপুলেশন ইনিউমারেশন। যে পর্বে প্রথম ব্যক্তির নাম, বয়স, পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, ধর্ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রভৃতি তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
অন্যদিকে, জনগণনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার উপরে বিভিন্ন জেলায় সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো জেলায় প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে ৩১ আগস্টের মধ্যে। সেটা সম্ভব নয়। তাছাড়া, স্কুল সামলেই কাজটি করতে হচ্ছে। এসআইআর, ভোট ও জনগণনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে একই শিক্ষককে! বাকিদের ডিউটি দেওয়াই হচ্ছে না। এদিন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন এ প্রসঙ্গে বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যথেষ্ট দক্ষ। কোনো অসুবিধা হবে না। যদিও জনগণনার কাজ স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকারা কখন করবেন বা স্কুল চলাকালীন তা করবেন কি না, এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের উপর ছেড়েছে সেন্সাস অব ইন্ডিয়া।