Bartaman Logo
৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পঞ্চায়েত প্রধানদের আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা ছাঁটতে আইনে সংশোধনের তোড়জোড় রাজ্যের

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধানদের আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা সীমিত করতে আইন সংশোধনের তোড়জোড় চলছে। এটি উন্নয়ন কাজকে প্রভাবিত করবে। বিস্তারিত পড়ুন।

পঞ্চায়েত প্রধানদের আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা ছাঁটতে আইনে সংশোধনের তোড়জোড় রাজ্যের
  • ৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ২০২৩ সালের জুলাই মাসে রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল। প্রায় ৩৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে (জিপি) গঠিত হয়েছিল নতুন বোর্ড। সেই বোর্ডগুলির মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর অধিকাংশ পঞ্চায়েত প্রধানই বেপাত্তা। ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে উন্নয়নের কাজ। এই পরিস্থিতিতে আগামী দু’বছর কাজ চলবে কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই ১৯৭৩ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত আইনে সংশোধনী আনার তোড়জোড় চালাচ্ছে রাজ্য। সেক্ষেত্রে বর্তমানে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে থাকা আর্থিক অনুমোদন বা লেনদেনের ক্ষমতা ছেঁটে ফেলা হবে। সূত্রের খবর, সংশোধিত আইনে প্রধানের বদলে আর্থিক লেনদেনের সমস্ত দায়িত্ব বর্তাবে পঞ্চায়েতের সর্বোচ্চ দুই পদাধিকারী আধিকারিকের উপর। পুর-আইন অনুযায়ী, কোনো পুরবোর্ডের দুই তৃতীয়াংশ সদস্য পদত্যাগ করলে প্রশাসক বসানোর সংস্থান রয়েছে। বর্তমান পঞ্চায়েত আইনে সেরকম কোনো জায়গাও নেই। পঞ্চায়েতের প্রত্যেক নির্বাচিত সদস্য পদত্যাগ করলে তবেই প্রশাসক বসিয়ে ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচন করানো যায়। তবে বর্তমানে ‘বাস্তব পরিস্থিতি’ তেমন নয় বলেই আইনে সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের আর কোনো রাজ্যে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা নেই। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতেই টাকা সবচেয়ে বেশি। টাকা তোলার সুবিধার জন্যই ওঁদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমরা এই নিয়ম তুলে দেওয়ার জন্য সংশোধনী বিল আনতে চলেছি। আগামী অধিবেশনেই যাতে সংশোধনী আনা যায়, তার জন্য পর্যালোচনা চলছে।’ 

Advertisement

সূত্রের খবর, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানরা পঞ্চায়েতমুখী না হওয়ায় ২০০০-এর বেশি পঞ্চায়েতে কাজকর্ম থমকে আছে। এর মধ্যে প্রধান পদত্যাগ করতে চেয়ে আবেদন করেছেন এবং অনাস্থা আনা হয়েছে, এমন পঞ্চায়েতের সংখ্যা মাত্র ১৫০। বর্তমান আইন অনুযায়ী, পঞ্চায়েতের যে কোনো আর্থিক  লেনদেনে প্রধানের সই বাধ্যতামূলক। তাঁর সঙ্গে সই করতে হয় এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট বা পঞ্চায়েত সচিবকে। অর্থাৎ উন্নয়নমূলক যেকোনো পরিকল্পনা রূপায়ণে বড়ো ভূমিকা থাকে প্রধানদের। কিন্তু জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব থাকে এগজিকিউটিভ অফিসারের উপর। একই নিয়ম গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেও চালু করতে আইন সংশোধন করা হবে বলে জানা গিয়েছে। 
প্রশাসনিক মহলের মতে, গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে চলতি অচলাবস্থার কারণে ধাক্কা খাচ্ছে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী আবাস প্রকল্পসহ অর্থ কমিশনের বিভিন্ন স্কিমের কাজ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পালাবদলের পর রাজ্য একাধিক পুরসভায় প্রশাসক বসিয়েছে। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে তা করার উপায় নেই। তাই বিধানসভার আগামী অধিবেশনেই পঞ্চায়েত আইনের সংশোধনী বিল পেশের সম্ভাবনা যথেষ্ট বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ