প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ২০২৩ সালের জুলাই মাসে রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল। প্রায় ৩৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে (জিপি) গঠিত হয়েছিল নতুন বোর্ড। সেই বোর্ডগুলির মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর অধিকাংশ পঞ্চায়েত প্রধানই বেপাত্তা। ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে উন্নয়নের কাজ। এই পরিস্থিতিতে আগামী দু’বছর কাজ চলবে কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই ১৯৭৩ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত আইনে সংশোধনী আনার তোড়জোড় চালাচ্ছে রাজ্য। সেক্ষেত্রে বর্তমানে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে থাকা আর্থিক অনুমোদন বা লেনদেনের ক্ষমতা ছেঁটে ফেলা হবে। সূত্রের খবর, সংশোধিত আইনে প্রধানের বদলে আর্থিক লেনদেনের সমস্ত দায়িত্ব বর্তাবে পঞ্চায়েতের সর্বোচ্চ দুই পদাধিকারী আধিকারিকের উপর। পুর-আইন অনুযায়ী, কোনো পুরবোর্ডের দুই তৃতীয়াংশ সদস্য পদত্যাগ করলে প্রশাসক বসানোর সংস্থান রয়েছে। বর্তমান পঞ্চায়েত আইনে সেরকম কোনো জায়গাও নেই। পঞ্চায়েতের প্রত্যেক নির্বাচিত সদস্য পদত্যাগ করলে তবেই প্রশাসক বসিয়ে ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচন করানো যায়। তবে বর্তমানে ‘বাস্তব পরিস্থিতি’ তেমন নয় বলেই আইনে সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের আর কোনো রাজ্যে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা নেই। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতেই টাকা সবচেয়ে বেশি। টাকা তোলার সুবিধার জন্যই ওঁদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমরা এই নিয়ম তুলে দেওয়ার জন্য সংশোধনী বিল আনতে চলেছি। আগামী অধিবেশনেই যাতে সংশোধনী আনা যায়, তার জন্য পর্যালোচনা চলছে।’



