Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘আগে রাম পরে বাম’ স্লোগানের ধার কমেছে, বিধানসভা ভোটের আগে অশনি সংকেত হুগলির বিজেপি শিবিরে

গত কয়েকটি নির্বাচনে হুগলিতে পদ্মপার্টিকে ‘রক্তদান’ করে সচল ও সবল করেছিল বামেদের ভোটব্যাংক। আগে রাম পরে বাম— বিজেপির চালু করা স্লোগানে গা ভাসিয়েছিলেন বহু বাম কর্মী

‘আগে রাম পরে বাম’ স্লোগানের ধার কমেছে, বিধানসভা ভোটের আগে অশনি সংকেত হুগলির বিজেপি শিবিরে
  • ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গত কয়েকটি নির্বাচনে হুগলিতে পদ্মপার্টিকে ‘রক্তদান’ করে সচল ও সবল করেছিল বামেদের ভোটব্যাংক। আগে রাম পরে বাম— বিজেপির চালু করা স্লোগানে গা ভাসিয়েছিলেন বহু বাম কর্মী। কিন্তু ছাব্বিশের ভোটের প্রাক্কালে সেই তত্ত্বে আর শোরগোল পড়ছে না। বিজেপির অন্দরের তথ্য, এবার বামেদের ভোটব্যাংকের সুবিধা পাওয়া কঠিন। কারণ, বাম প্রভাবিত এলাকায় তৃণমূল সরকারের জন্য ‘দেখে নেব’-এর মতো উগ্র শরীরী ভাষা এবার অদৃশ্য। উলটে ওইসব অঞ্চলে ‘ঘর ওয়াপসি’র টান প্রবল। এই জল্পনাই বিজেপির অন্দরমহলে হৃদকম্পন বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে অশনি সংকেত দেখছেন পদ্মপার্টির ভোট-ম্যানেজাররা।

Advertisement

পদ্মপার্টির হুগলি সাংগঠনিক জেলার এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, বাম কর্মীদের একটি বড়ো অংশ তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছিল। গত কয়েকটি ভোটে তাঁরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের নির্বাচনী সাফল্য না মেলায় তাঁদের সেই ঝাঁঝ অনেকটাই মিইয়ে গিয়েছে। তাঁরা এবার ঝাঁকের কই হয়েই থাকতে চাইছেন। তাতে স্থানীয় স্তরে আমাদের ভোট বাক্সে প্রভাব পড়বে। যদিও বিজেপির রাজ্যনেতা স্বপন পাল বলেন, বাংলায় তৃণমূলের অপশাসনের কারণে মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আমরা মানুষের হয়ে লড়াই-আন্দোলন করেছি, তাতে দলের জনভিত্তি তৈরি হয়েছে। যেকারণে দল আড়েবহরে বেড়েছে। বামেদের ভোট-ম্যাজিকে বিজেপি’র ভাণ্ডার ভরেনি। তাই ওসব নিয়ে দলে কোনো চর্চা নেই এবং উদ্বেগ-আশঙ্কারও জায়গা নেই।
সিপিএমের হুগলি জেলার সম্পাদক তথা রাজ্যনেতা দেবব্রত ঘোষ বলেন, পরিস্থিতির প্রভাব যে বামকর্মীদের উপর পড়েনি, সেকথা বলব না। কিন্তু সেসব অতীত। গত লোকসভা নির্বাচন থেকেই বামকর্মীরা এককাট্টা হয়েছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের ভিন্ন চেহারায় দেখা যাবে।
ওয়াবিকবহাল মহল বলছে, ২০১১ সালে তৃণমূলের কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার পর ২০১৬ সালের ভোটে বামেরা ভেবেছিল, তারা ক্ষমতায় ফিরছে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তারপর থেকেই বামেদের একটি অংশ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে। তাঁদের মধ্যে যে কোনও মূল্যে তৃণমূলকে গদিচ্যুত করার মানসিকতা তৈরি হয়। সেই পরিসরেই আগে রাম পরে বাম তত্ত্বের আমদানি। বিজেপির ঘাড়ে বন্দুক রেখে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এগিয়ে আসে তারা। তাদের সমর্থন পেলেও বাস্তবে বিজেপির পালে হাওয়া লাগেনি ওই নির্বাচনে। তাই ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ‘পদ্ম’ ছেড়ে বামেদের ওই অংশ ‘ঘর ওয়াপসি’ হয়েছিল। তার স্পষ্ট প্রতিফলন পড়েছিল ভোট বাক্সে। কিছুটা হলেও ভোট বেড়েছিল লালপার্টির। এক বামনেতা বলেন, যে কর্মীরা এখনও মূলস্রোতে ফেরেননি, তাঁরাও বিজেপির উপর আর ভরসা রাখতে পারছেন না। 
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিজেপি। কারণ, কার্যত সংগঠনহীন বিজেপির পক্ষে বামেদের ‘ওই অংশ’ না থাকলে ভোটব্যাংকের কঙ্কাল বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ