Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / এই মুহূর্তে

এবার কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া উত্তরপ্রদেশে, চার মাস মেয়ের দেহ আগলে বাবা

গত বছর ডিসেম্বর মাসে, জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মিরাটের বছর পঁয়ত্রিশের প্রিয়ঙ্কা বিশ্বাসের। কিন্তু মেয়ের দেহ সৎকার না করে ঘরেই রেখে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা উদয়ভান বিশ্বাস।

এবার কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া উত্তরপ্রদেশে, চার মাস মেয়ের দেহ আগলে বাবা
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৪
Prefer us on Google

মিরাট, ১২ মার্চ: গত বছর ডিসেম্বর মাসে, জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মিরাটের বছর পঁয়ত্রিশের প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসের। কিন্তু মেয়ের দেহ সৎকার না করে ঘরেই রেখে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা উদয়ভানু বিশ্বাস। কাউকে জানতেও দেননি। এই চার মাস বাড়ির বাইরে একেবারেই স্বাভাবিক ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত ক্লার্ক উদয়ভানু বিশ্বাস। কিন্তু দীর্ঘদিন প্রিয়াঙ্কার কোনও খবর না পেয়ে আত্মীয়রা চেপে ধরেন উদয়ভানুকে। অবশেষে তিনি মেয়ের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেন। দুর্গন্ধ ঢাকার জন্য মেয়ের দেহে নিয়মিত পারফিউম ছড়াতেন তিনি। পাশাপাশি ঘরে স্তূপ করেছিলেন আবর্জনার।  

Advertisement

এই ঘটনা জানাজানি হতেই খবর দেওয়া হয় পুলিশে। দেখা যায় প্রিয়াঙ্কার দেহ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তা উদ্ধার করে বৃদ্ধ বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ। প্রিয়াঙ্কার দেহ পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে। তার মানসিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে মনোবিদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে উদয়ভানু জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে তাঁর স্ত্রী মারা যান। এরপর থেকে মেয়েই ছিল তার সর্বক্ষণের সঙ্গী। মেয়ের মৃত্যু কোনওভাবেই মানতে পারেননি তিনি। আর তাই দাহ না করে মেয়েকে নিজের কাছেই রেখে দেন বাবা।  

উদয়ভানুর কীর্তি মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৫ সালে কলকাতার রবিনসন স্ট্রিট এবং ২০১৮ সালে বেহালার  ঘটনাকে। রবিনসন স্ট্রিটে মৃত বোনের দেহের সঙ্গে দীর্ঘ দিন কাটিয়ে ছিলেন পার্থ দে। বেহালার এসএন স্ট্রিটে মায়ের দেহ প্রায় ৩ বছর লুকিয়ে রেখেছিলেন ওই ব্যক্তি।

সম্পর্কিত সংবাদ