সজল মণ্ডল, রঘুনাথপুর: রথ উৎসবের নির্দিষ্ট দিনে নয়, তার পরেরদিন অনুষ্ঠিত হয় রথযাত্রা। পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড লাগোয়া সাঁওতালডিহির পেনসিলডাঙায় একটি আশ্রমে রথযাত্রায় এমনই অভিনব নিয়ম চলে আসছে। ওই আশ্রমে একবার রথযাত্রা না হওয়ায় শিষ্যরা হতাশ হয়েছিলেন। তাই শিষ্যদের অনুরোধে পরদিনই রথযাত্রা হয়। তখন থেকে এই নিয়ম চলে আসছে। রাজ্যের সর্বত্র একই দিনে রথযাত্রা হলেও সাঁওতালডিহির পেনসিলডাঙায় রথের পরদিন এই উৎসব হয়।
এখানে রথ উপলক্ষ্যে একটি ছোট মেলাও বসে। সেখানে পাড়া ব্লক সহ ঝাড়খণ্ডে রাজ্যের কয়েকহাজার মানুষ সামিল হন। সারাদিন ধরে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ করা হয়। রাতে বাউল গান পরিবেশিত হয়।
দীর্ঘ কয়েকদশক ধরে এই ব্যতিক্রমী রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর পিছনে একটি ইতিহাস রয়েছে। পেনসিলডাঙায় স্বামী উত্তমানন্দ পরমহংসদেব ১৯৫০সালে হেমদাস আনন্দ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। স্বামী উত্তমানন্দের মূল আশ্রমটি ঝাড়খণ্ডের তালগড়িয়ায় ছিল। প্রতিবছর রথের দিন মূল আশ্রমে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হত। কিন্তু পেনসিলডাঙায় তা হত না। সেকারণে পেনসিলডাঙা আশ্রমের শিষ্যরা রথযাত্রা আয়োজনের জন্য গুরুদেবের দ্বারস্থ হন। একই দিনে দু’টি আশ্রমে রথযাত্রা করা সম্ভব নয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রথের দিন তালগড়িয়ার মূল আশ্রমে এবং পরদিন পেনসিলডাঙার আশ্রমে রথযাত্রা হবে। সেই থেকে ব্যতিক্রমী রথযাত্রা শুরু হয়। রথে চেপে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা মাসির বাড়ি যান। আবার নিয়ম মেনে সাতদিন পর উলটো রথ অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তমানন্দ পরমহংসদেবের বড় নাতি রাসবিহারী সিং বলেন, এই ব্যতিক্রমী রথযাত্রা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। এলাকার বাসিন্দারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। মানুষ যাতে সুশৃঙ্খলভাবে রথ দেখতে পান, সেজন্য সাঁওতালডিহি থানার পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া যায়। রথের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, নরনারায়ণ সেবা, কীর্তন ও বাউল গান হয়। এলাকার বাসিন্দা সুব্রতকুমার সিং বলেন, নিয়মমতো আশ্রমে রথের দিন পুজো হয়। সেদিন আড়াই হাত রথ টানা হয়। কিন্তু মূল অনুষ্ঠানটি পরের দিন হয়। কথিত আছে, এখানে প্রথমবার রথে ১৫হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। মেলায় বসা দোকানদাররা সমস্ত জিনিস শেষ হয়ে গিয়েছিল। তখন এক পয়সায় দুই খিলি পান পাওয়া যেত। কিন্তু সেবারের মেলায় চার পয়সাতেও এক খিলি পান পাওয়া যায়নি। এখন মেলার দিন সবাইকে খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানো হয়। এলাকার বাসিন্দা তথা রাজ্যের মন্ত্রী নদীয়ারচাঁদ বাউরি বলেন, প্রতি বছরই পরিবার নিয়ে এই রথ দেখতে যাই। এই রথযাত্রায় প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। • নিজস্ব চিত্র