Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আদিবাসীর তৈরি কাঠের রথে সাঁতুড়িতে সূচনা হয় রথযাত্রার

সাঁতুড়িতে আদিবাসীর তৈরি কাঠের রথে রথযাত্রার সূচনা হল। এলাকার মানুষজন আনন্দে মেতে উঠেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

আদিবাসীর তৈরি কাঠের রথে সাঁতুড়িতে সূচনা হয় রথযাত্রার
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সজল মণ্ডল, রঘুনাথপুর: সাঁতুড়ি থানা এলাকায় তখন রথের প্রচলন ছিল না। তাই সাঁতুড়ি, টাড়াবাড়ি, গড়শিকার মতো পঞ্চায়েত এলাকার মানুষজন পাশের জেলা বাঁকুড়ার শালতোড়ায় রথ দেখতে যেতেন। এরপর এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষজন সাঁতুড়িতে রথযাত্রায় উদ্যোগী হন। তাঁদের উদ্যোগে ১৯৯৮ সালে এলাকার ছায়রাবাড়ি গ্রামের একজন সাঁওতাল আদিবাসীর তৈরি কাঠের রথে সাঁতুড়িতে রথ যাত্রার সূচনা হয়। সাঁতুড়ির শিউলি পাহাড়ের নীচে রথযাত্রার সূচনা হয়। পরের বছর কৃষ্ণ, বলরাম, সুভদ্রাকে রাখার জন্য একটি টালির ছাদন দেওয়া মাটির বাড়ি তৈরি করা হয়। পরে সকলের সহযোগিতায় লোহার রথ তৈরি করা হয়। সেই বছর থেকেই মেলা বসতে শুরু করে। প্রতি বছর রথের দিন মেলায় তিল ধারণের জায়গা থাকে না। এলাকার মানুষজন ভিড় জমান। ভিড় সামাল দিতে এলাকায় বিশাল পুলিশ মোতায়ন করা হয়। 

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, এলাকায় বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠান হলেও কোনো রথ হত না। ফলে রথের সময় টেলিভিশনে রথ দেখে মন জুড়াত। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না। ফলে যাদের বাড়িতে সাইকেল, বাইক ছিল, তারা রঘুনাথপুর, কাশীপুর, শালতোড়া রথ দেখতে যেত। সাঁতুড়িতে রথের প্রচলন হওয়ায় মানুষের আশা পূরণ হয়েছে। রথের দিন সকাল থেকে মন্দিরে পুজো হয়। কীর্তন গান পরিবেশিত হয়।
কমিটির অন্যতম সদস্য বিশ্বজিৎ গুপ্তা বলেন, একজন সাঁওতাল আদিবাসীর তৈরি কাঠের রথ দিয়ে প্রথম রথের সূচনা হয়েছিল। তিনিও আমাদের কমিটি অন্যতম সদস্য ছিলেন। জাঁকজমকভাবে মেলার মাধ্যমে রথের আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু, বর্ষার সময় বৃষ্টির জেরে টানা মেলা করা সম্ভব নয়। তাই একদিনের মেলা বসানো হয়। রথ উপলক্ষ্যে বহু মানুষ ভিড় জমায়। এলাকার মানুষ ও প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা মেলে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ