নিউইয়র্ক, ২০ জুলাই: মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আলো তখনও নিভে যায়নি। স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে একটাই সংখ্যা স্পেন ১, আর্জেন্টিনা ০। ৯০ মিনিটে গোলের দেখা না মিললেও অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের ডান পায়ের দুরন্ত শটে বল আর্জেন্তিনার জালে জড়িয়ে যায়। সেই একটি গোলই বদলে দিল বিশ্বকাপের ভাগ্য। শেষ বাঁশি বাজতেই স্পেনের ফুটবলাররা উল্লাসে মেতে ওঠেন, আর আর্জেন্তিনার ফুটবলারদের চোখেমুখে তখন শুধুই হতাশা। সদ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট হাতছাড়া হয় মেসিদের।
কিন্তু ট্রফি বিতরণের আগে এমন এক দৃশ্য দেখা গেল, যা হয়তো এই ফাইনালের ফলকেও ছাপিয়ে গেল। চোখে জল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন লায়োনেল মেসি। ঠিক সেই সময় স্পেনের তরুণ নায়ক লামিন ইয়ামাল এগিয়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। কয়েক সেকেন্ডের সেই আলিঙ্গনে ছিল না কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ছিল না জয়-পরাজয়ের অহংকার। ছিল শুধু এক কিংবদন্তির প্রতি নতুন প্রজন্মের শ্রদ্ধা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। বিশ্বকাপ চলাকালীনই আরো একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ছোট্ট লামিন ইয়ামালকে বাথটাবে স্নান করিয়ে দিচ্ছেন মেসি। মুহূর্তটি ২০০৭ সালের। সে সময় ইউনিসেফ স্পেনের দুস্থ পরিবারের শিশুদের নিয়ে একটি বিশেষ ফটোশুট ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছিল, যেখানে বার্সেলোনার বেশ কয়েকজন ফুটবলার অংশ নেন। সেই আয়োজনেই তোলা হয়েছিল এই বিরল ছবিটি। যেখানে তরুণ মেসি ও শিশু ইয়ামালকে একই ফ্রেমে দেখা গিয়েছিল।
দুটি ছবি। মাঝখানে ১৯ বছরের ব্যবধান। প্রথম ছবিতে মেসির কোলে ভবিষ্যৎ। দ্বিতীয় ছবিতে সেই ভবিষ্যৎই কাঁধে মাথা দিয়ে সম্মান জানাচ্ছে কিংবদন্তিকে। ফুটবল ইতিহাসে এর চেয়ে সুন্দর ছবি হয়তো খুব কমই দেখা গিয়েছে। এই বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বজয়ের গল্প নয়। এটি ছিল এক যুগের শেষ এবং আর এক যুগের সূচনা। যে মেসিকে দেখে বড় হয়েছে ইয়ামালের প্রজন্ম, সেই মেসির সামনেই বিশ্বকাপ জিতে নতুন ইতিহাস লিখল স্পেন। আর মাঠের মাঝখানে দুই প্রজন্মের সেই আলিঙ্গন বিশ্বকাপের শেষ চিত্রটাই পালটে দিল।