নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যাপারে কড়া হচ্ছে লালবাজার। তিনমাস অন্তর তাঁদের কাজের মূল্যায়ন করবেন থানার ওসি বা যে ইউনিটে তিনি কর্মরত রয়েছেন সেখানকার আধিকারিকরা। এই রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সিভিকদের ভবিষ্যৎ। পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না-হলে সেক্ষেত্রে তাঁদের পাকাপাকিভাবে ডিমবিলাইজ করার ক্ষেত্রে পথে হাঁটবে লালবাজার।
সিভিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। পূর্বতন জমানায় নিয়োগপ্রাপ্ত সিভিকদের একটা বড়ো অংশই তৃণমূলের বিধায়ক কিংবা এমপির কোটায় পুলিশে ঢুকেছেন। কর্তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, বহু সিভিকই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কাজে অনুপস্থিত থাকছেন দীর্ঘদিন। অথচ মাসের শেষে তাঁরা বেতন পেয়ে যান। এমনকি যাঁরা শারীরিকভাবে অক্ষম অথবা চিকিৎসার জন্য ডিউটি করার মতো অবস্থায় নেই, তাঁরাও বহাল তবিয়তে ফোর্সে রয়ে গিয়েছেন! ডিসিপ্লিনড ফোর্সের শৃঙ্খলা মেনে চলেন না তাঁরা। এমনও অভিযোগ আসছে, যে-জায়গায় তাঁদের ডিউটিতে থাকার কথা সেখানে থাকছেন না অথবা ডিউটিরত অবস্থায় বেপরোয়াভাবে মোবাইল ঘাঁটছেন। পাশাপাশি কর্তারা জানতে পারছেন, সিভিকদের একটা অংশ থানায় কিংবা ট্রাফিক বিভাগে কাজ করায় সেখানে বিভিন্ন ‘মান্থলি সিস্টেম’ চালাচ্ছেন। বিভিন্নজনের কাছ থেকে ‘তোলাও’ তুলছেন বলে অভিযোগ।
লালবাজার সূত্রের খবর, কোনো কোনো সিভিক এতটাই প্রভাবশালী যে তাঁদের সঙ্গে ডিউটিতে থাকা অফিসারদের নির্দেশ পর্যন্ত পালন করেন না তাঁরা। সিভিকদের এই বিশৃঙ্খল আচরণ বন্ধ করতে কড়া অবস্থান নিচ্ছে লালবাজার। তাদের তরফে এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, থানার ওসি বা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা তিনমাস অন্তর তাঁদের সামগ্রিক কাজের মূল্যায়ন করবেন। সেটি সন্তোষজনক না-হলে তাঁদের ‘ডিমবিলাইজ’ করার মতো কড়া পদক্ষেপ করা হবে। কেউ না জানিয়ে বা উপযুক্ত কারণ ছাড়াই অনির্দিষ্টকাল অনুপস্থিত থাকলে এবং শৃঙ্খলা ভাঙলে তাঁকে শোকজ করা হবে। দুটি নোটিস পেয়েও উত্তর না দিলে সংশ্লিষ্ট সিভিককে ডিমবিলাইজ করা হবে। উত্তর সন্তোষজনক না-হলেও একই ব্যবস্থা নেবে লালবাজার।