সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: পাথরপ্রতিমার শিবগঞ্জ তখন প্রত্যন্ত গ্রাম। একবার গ্রামের কয়েকজন রথের আগে গাছের ডাল ভেঙে, কাঠ জোগাড় করে রথ তৈরি করেছিলেন। সে রথ গ্রামে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। গ্রামবাসীরা রথ টেনে খুশি। তৎকালীন দুই জমিদারের বিষয়টি নজরে আসে। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন এই এলাকায় ধুমধাম করে রথযাত্রা করবেন। তাতে আরও খুশি হবেন গ্রামবাসীরা। তারপর তাঁরা মেদিনীপুর থেকে নিয়ে এলেন ওস্তাদ কারিগরদের। এই কারিগররা নামকরা। তাঁরা মহিষাদল রাজবাড়ির রথ তৈরি করেছিলেন। তাঁরাই প্রত্যন্ত পাথরপ্রতিমায় এলেন। তারপর শাল কাঠ দিয়ে তৈরি করলেন রথ। আর নিম কাঠ দিয়ে তৈরি হল জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার মূর্তি। তারপর গ্রামে ধুমধাম করে শুরু হল রথযাত্রা। সেই অনুষ্ঠান এখনও চলছে। দেখতে দেখতে ১০০ বছর বয়স হল রথযাত্রার। আজ উল্টোরথে বিপুল ভিড়ের সম্ভাবনা। রথের দিন বৃষ্টি থাকার কারণে সাত মন বাতাসা হরির লুট দেওয়া হয়েছিল। উল্টো রথে আবহাওয়া ভালো থাকলে এর দ্বিগুণ বাতাসা লুট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। উল্টো রথে প্রচুর ভক্ত সমাগমের সম্ভাবনা। সেই মতো সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ১০০ বছর আগে প্রজাদের উৎসাহ দেখে যে রথটি বানিয়েছিলেন জমিদার আনন্দলাল ও শিবপ্রসাদ মাইতি। সেই রথটি গত কয়েক বছর আগে ভেঙে যায়। এরপর আবার শাল কাঠ তৈরি করা হয় নতুন একটি রথ। নতুন রথের উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। তৈরি করতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। আর দুই জমিদারের তৈরি করা সেই মূর্তির পুজো আজও হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ভক্ত এসেছিলেন রথের দিন। তাঁরাই রথের রশি টেনেছেন। বর্তমানে জমিদারি প্রথা নেই। কিন্তু আনন্দলালদের বংশধররা রয়েছেন। তাঁদের তত্ত্বাবধানে এখন রথযাত্রা হয়ে থাকে। জমিদারদের বানানো শিব মন্দিরে রাখা হয় জগন্নাথদেবের মূর্তি। এই মন্দিরে দুর্গা, মহাদেব ও জগন্নাথের নিত্যপুজো হয়। অতীতে মন্দির ছিল মাটির। বছর পাঁচেক আগে সেটি পাকা হয়েছে। গঠন শৈলীর কিছু পরিবর্তন হয়েছে। তবে রথযাত্রার রেওয়াজ রয়ে গিয়েছে আগের মতোই। জমিদার পরিবারের অনুমতি নিয়েই টানা হয় রথের রশি। আনন্দলালের বংশধর প্রাণগোপাল মাইতি বলেন, ‘সে সময় এই অঞ্চলে কোনও রথযাত্রা হতো না। এখন অনেকগুলি রথ বেরলেও জমিদারদের চালু করা রথযাত্রার ঘিরেই মানুষের মধ্যে উন্মাদনা দেখা দেয়। প্রাচীন রীতিনীতি মেনে অনুষ্ঠান হয়।’ -নিজস্ব চিত্র