সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর জেএমবি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। কখনো আনসাররুল্লাহ বাংলা টিম, আবার কখনো তারা অন্য নামে মাথা তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু, তেমন সাফল্য তারা পায়নি। এখন আবার নতুন ঘরানায় তারা জেএমবি’র মতোই দেশজুড়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা শুরু করেছে। এখন তাদের নতুন মোড়ক ইমাম মাহমুদ কাফিলা(আইএমকে)। সেই সংগঠন বিস্তারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মঙ্গলকোটের ইমাম পিয়ার মহম্মদকে। তার কাজ ছিল সংগঠনে নিয়োগ হওয়া সদস্যদের মগজধোলাই করা। ধর্মীয় শিক্ষাকে ঢাল করেই সে মগজধোলাই করত। এরাজ্য ছাড়া অসম এবং ত্রিপুরাতে গিয়েও মগজধোলাইয়ের কাজ সে করত।
গোয়োন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে সে এই কাজ করে আসছে। সংগঠনটি একাধিক টিমে ভাগ হয়ে কাজ করছে। একটি টিমের কাজ সদস্য নিয়োগ করা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তারা এই কাজ করে আসছে। নতুন সদস্যদের মগজ ধোলাইয়ের কাজ করে পিয়ার মহম্মদের মতো সংগঠনের অভিজ্ঞরা। গোয়োন্দারা জানতে পেরেছেন, সংগঠনটির প্রথম টার্গেট ছিল অসম। সেখানকার প্রতিটি জেলাতেই তারা বীজ ছড়াতে চেয়েছে। মঙ্গলকোটের ওই ইমাম অসমে গিয়েও মগজ ধোলাইয়ের কাজ করে এসেছে। এছাড়া সে ত্রিপুরাতেও বিশেষ ক্লাস নেওয়ার জন্য যেত। এক আধিকারিক বলেন, পিয়ার মহম্মদের মাথা অত্যন্ত ঠান্ডা। সে সোশ্যাল সাইটে বিশেষ সক্রিয় থাকত না। তবে বিশেষ অ্যাপসের মাধ্যমে সংগঠনের বাংলাদেশের মাথাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। পরিযায়ী শ্রমিকদের সংগঠনে টানার মরিয়া চেষ্টা করা হয়। মঙ্গলকোট থেকে এর আগে আনসাররুল্লাহ বাংলা টিমের একজন গ্রেপ্তার হয়েছিল। এছাড়া নাদনঘাট থানা এলাকার দু’জনকে গুজরাত এসটিএফ দু’বছর আগে গ্রেপ্তার করেছিল।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেএমবি’র মাথারাই এই সংগঠনটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনই কোথাও তাদের হামলা বা বিস্ফোরণের ছক ছিল না। তারা এখন সংগঠন বিস্তারের উপর জোর দিয়েছে। সংগঠনটি আর্থিক সহয়তা কোথা থেকে পাচ্ছে, তা নিয়ে গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেছে। এক সময় জেএমবি’র চরম আর্থিক সংকট দেখা দেয়। সেই কারণে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডাকাতির ছক করে। বিপুল পরিমাণ টাকা তাদের কাছে কোথা থেকে আসছে তা নিয়েও গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলকোটের ওই ইমামের কাছে থেকে বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে। সে এরাজ্যের কোন কোন জেলায় গিয়ে মগজ ধোলাই করেছে, সেটাও তাকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। বিভিন্ন জেলাতেই জেএমবি’র এই শাখা সংগঠন স্লিপার সেল তৈরি করেছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে।-নিজস্ব চিত্র