


বিদ্যাসাগরের হাত ধরে এদেশে মহিলাদের আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। ধীরে ধীরে শিক্ষার সেই আলো আরও ছড়িয়ে পড়ে। আধুনিক শিক্ষার সুবাদে সাহিত্য, সংস্কৃতি বিভিন্ন স্তরেই মহিলাদের উজ্জ্বল অবদানের সাক্ষী থেকেছে এই বাংলা তথা ভারত। বিজ্ঞান জগতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ব্রিটিশ শাসিত ভারতের বিজ্ঞান গবেষণায় নয়া দিগন্তের হদিশ দিয়েছিলেন বিভা চৌধুরী। শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে তাঁর গবেষণা ছিল যুগান্তকারী। হুগলির জমিদার পরিবারের এই কন্যাসন্তানকে অবশ্য বিজ্ঞান জগতে নিজের জায়গা করে নিতে বহু বাধা পেরতে হয়েছিল। ১৯১৩ সালে তাঁর জন্ম। বাবা ছিলেন চিকিৎসক। পারিবারিক শিক্ষার পরিবেশে ছোট থেকেই বিভা ছিলেন অত্যন্ত মেধাবি। ১৯৩৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর যোগ দেন বসু বিজ্ঞান মন্দিরে। সেখানে কাজ করার ক্ষেত্রে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার শিকার হলেও হাল ছাড়েননি বিভা। শুরু করলেন মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষণা। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব সত্ত্বেও নিজের সাধনায় ছিলেন অটল। ১৯৪৩ সালে যৌথভাবে মেসন কণা নিয়ে তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় তাঁর। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না থাকায় গবেষণায় ছেদ টানতে বাধ্য হন বিভা। আর তাঁর দেখানো পথ ধরেই এই গবেষণায় ১৯৫০ সালে নোবেল পান ব্রিটিশ বিজ্ঞানী সি এফ পাওয়েল। এই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী তাঁর পেপারে বিভার নামও উল্লেখ করেছিলেন। এরপর ইংল্যান্ডে এসে পিএইচডি করেন বিভা। বিজ্ঞানী প্যাট্রিক মেনার্ড স্টুয়ার্ট ব্ল্যাকেটের তত্ত্বাবধানে মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। এই গবেষণায় নোবেল পেয়েছিলেন ব্ল্যাকেট। দেশে ফিরে হোমি জাহাঙ্গির ভাবার আমন্ত্রণে টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে যোগ দেন বিভা। ফিরে আসেন কলকাতায়। ১৯৯১ সালের ২ জুন তাঁর জীবনাবসান হয়। বিজ্ঞান গবেষণার অবদানের জন্য ২০১৯ সালে প্যারিসের অ্যাস্ট্রনমিক্যাল ইউনিয়ন এই বঙ্গকন্যার নামে এক নক্ষত্রে নামকরণ করে।