Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / কলকাতা

কমিশনের কর্তারই নাম বাদ, বঙ্গে সফটওয়্যারের কার্যকারিতা নিয়ে ফের প্রশ্ন

অবিশ্বাস্য হলেও ঘোর বাস্তব! স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব যাঁর কাঁধে এবার সেই আধিকারিকের নাম বাদ পড়ল ভোটার তালিকা থেকে।

কমিশনের কর্তারই নাম বাদ, বঙ্গে সফটওয়্যারের কার্যকারিতা নিয়ে ফের প্রশ্ন
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবিশ্বাস্য হলেও ঘোর বাস্তব! স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব যাঁর কাঁধে এবার সেই আধিকারিকের নাম বাদ পড়ল ভোটার তালিকা থেকে। ফলে, যে অপরীক্ষিত এআই সফ্টওয়্যার দিয়ে সবটা যাচাই করা হয়েছে, তার কার্যকারিতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠে গেল।

Advertisement

সিনিয়র এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পদের আধিকারিক মহম্মদ ইরফান হাবিবকে বীরভূমের ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ডিডিইও) পদের দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিকের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। অথচ বীরভূমের একশো শতাংশ স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্ব তাঁরই। কোথাও কোনো গরমিলে দেখলে ইআরওদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া তাঁর দায়িত্ব। ইআরও-রা সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য। এহেন আধিকারিকের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, এই স্তরের আধিকারিকদের জন্য আগেই ‘লগ ইন আইডি’ তৈরি করেছিল কমিশন। ছবি ও এপিক কার্ড নম্বর দিয়ে তৈরি হয়েছে ওই লগ ইন আইডি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেও লগ ইন আইডি চালু রয়েছে। অথচ নাম বাদ পড়ার পর খাতায় কলমে ওই এপিক কার্ডের আর অস্তিত্ব নেই। 
জানা গিয়েছে, ইরফান হাবিব বর্ধমানের রায়নার দু’নম্বর ব্লকের ভোটার। রায়নাতে তাঁদের সাত পুরুষের বাস। এর আগের নির্বাচনগুলিতে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক হিসাবে একাধিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৯ সালে পুরানো মালদহের বিডিও ছিলেন ইরফান। সেই সূত্রেই সে বছর তিনি অ্যাসিট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার (এআরও) হিসাবে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দক্ষিণ দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও ছিলেন ইরফান। এবার তিনি বীরভূমের ডিডিইও পদে রয়েছেন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তাঁর নাম চলে যায় সন্দেহজনক ভোটারের তালিকায়। শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তিনি নথি হিসাবে ১৫০ বছর পুরানো জমির কাগজ, পাসপোর্ট এবং সার্ভিস রেকর্ড দাখিল করেন। চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম চলে যায় বিচারাধীন তালিকায়। কিন্তু অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যায় তাঁর নাম ‘ডিলিটেড’। কেন এই আধিকারিকের নাম পড়েছে, সেই প্রশ্নের জবাব কমিশনের কাছে নেই।
এদিকে, রাজ্যজুড়ে বিচারাধীন ভোটারদের যে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ বিধানসভায় ৭৪ হাজার ৭৭৫ জন বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই বিধানসভায় মোট ১ লক্ষা ৮ হাজার ৪০০ জনের নাম ছিল বিচারাধীন তালিকায়। পাশাপাশি সবচেয়ে কম বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে পুরুলিয়ার মানবাজার বিধানসভায়। এখানে মাত্র ৭১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। 
অন্যদিকে, কলকাতায় ১১টি বিধানসভা থেকে অন্তত ৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দুই কলকাতা মিলিয়ে প্রথম পর্যায়ে ৬ লক্ষ ২৯ হাজার ৪২৮ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে আরও ৬৭ হাজার ৭৩২ ভোটারের নাম রয়েছে বাদের তালিকায়। হিসাব অনুযায়ী উত্তর কলকাতায় তালিকা থেকে 
বাদ পড়েছেন অন্তত ৩০ শতাংশ ভোটার। দক্ষিণ কলকাতা কমেছে ২৭.৫ শতাংশ ভোটার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ