


সংবাদদাতা, বনগাঁ: পুরসভার পক্ষ থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল রাস্তায় পিচ বা কালো অংশের উপর কোনও যানবাহন দাঁড় করানো যাবে না। বেআইনিভাবে রাস্তায় গাড়ি রাখলে পুরসভার পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু পুরসভার সেই নির্দেশিকাই সার। নজরদারির অভাবে শহরের প্রতিটি রাস্তা জুড়ে বেআইনি পার্কিংয়ের রমরমা। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকছে একের পর এক অটো, টোটো, চার চাকার গাড়ি। বাইকের বেআইনি পার্কিংও তৈরি হয়েছে শহরের একাধিক জায়গায়। নাগরিকদের অভিযোগ, রাস্তায় ফুটপাত বলে কিছু নেই। ফুটপাত জুড়ে বেআইনি পার্কিং এবং অবৈধ দোকান গজিয়ে উঠেছে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাচল করছেন। এই কারণে অনেক সময়ে দুর্ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে।
অতীতে পুরসভার পক্ষ থেকে একাধিকবার মাইকে প্রচার করা হয়েছিল যে, বেআইনিভাবে ফুটপাত দখল করে রাখা যাবে না। শহরের মধ্যে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। রাস্তার পিচের অংশে গাড়ি পার্কিং করলে পুরসভা ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু সেই প্রচারই সার। শহরের একমাত্র হাসপাতালের সামনে রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশ জুড়ে চলছে বেআইনি পার্কিং। রাস্তার দু’পাশে অটোর বেআইনি স্ট্যান্ড। পাশেই টোটো স্ট্যান্ড। বনগাঁ-চাকদহ সড়কে হাসপাতাল কালীবাড়ি থেকে ট বাজার পর্যন্ত রাস্তার ফুটপাত পুরোটাই দখল হয়ে গিয়েছে। কয়েকমাস আগে ঘটা করে ট বাজারের মধ্যে রাস্তার দু’পাশে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, ওই সীমানার বাইরে দোকান নিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে সেই সীমানা উধাও। যশোর রোড, বাগদা রোডেও একই ছবি। ফলে যানজট লেগেই আছে শহরে।
শুধু তাই নয়, শহরে একাধিক লজ, ব্যাঙ্কোয়েট তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেখানে পৃথক কোনও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে সেগুলি ভাড়া দেওয়া হলে রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে থাকে অনুষ্ঠানে আসা বিভিন্ন গাড়ি। বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসন ও পুরসভার উদাসীনতায় শহরের বুক থেকে ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে। এবিষয়ে কংগ্রেস নেতা সাধন ঘোষ বলেন, শহরের রাস্তায় ফুটপাত বলে কিছু নেই। সব ফুটপাত দোকান ও গাড়ির দখলে। মানুষ রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন, তাতে দুর্ঘটনাও বাড়ছে।
যদিও এবিষয়ে পুরসভার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এনিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।