সংবাদদাতা, কালনা: গ্রামের মানুষের আবদার মেটাতে ২৫০ বছর আগে কালনা ভবানন্দপুরের মুখোপাধ্যায় পরিবারে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। আজও পরিবারে কৌলিন্য বজায় রেখে পুজো হয়ে আসছে। পুজোয় আশেপাশের গ্রামের মানুষের ঠাকুর দেখতে ভিড় করেন। দেবী দুর্গার মণ্ডপের পাশাপাশি রয়েছে নবপত্রিকার আলাদা মন্দির।
কালনা থানার ভবানন্দপুর প্রাচীন বর্ধিষ্ণু গ্রাম। এই গ্রামের জমিদার ছিলেন ভুবনানন্দ মুখোপাধ্যায়। ২৫০ বছর আগে আশেপাশে কোনো দুর্গাপুজো ছিল না। গ্রামের মানুষে আবদার মেটাতেই মুখোপাধ্যায় পরিবারে শুরু হয় দুর্গাপুজো। পরিবারের সদস্য হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের আমলে পুজোর জৌলুস বৃদ্ধি পায়। হরিনারায়ণবাবু ছিলেন ব্রিটিশ আমলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। সেই সময় পুজোর ক’দিন আশেপাশের গ্রামের মানুষের খাওয়া দাওয়ার আয়োজন ছিল জমিদার বাড়িতে। আজও অষ্টমীর দিন খাওয়ার আয়োজন হয়। পরিবারের দাবি, জমিদার ভুবনানন্দবাবুর নাম অনুসারে গ্রামের নাম হয়েছে ভবানন্দপুর।
পরিবারের অনেকেই ব্যবসায়িক সূত্রে ভিনরাজ্য ও বিদেশে থাকেন। পুজোয় সকলে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করেন। দশমীতে সিঁদুর খেলা সহ দেবী বিসর্জনের পর গ্রামের একটি মনসা গাছের নীচে গিয়ে ঢাক বাজানো হয়। গাছ থেকে নীলকণ্ঠ পাখি আকাশে উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে আজও মানুষ ভিড় করেন। পরিবার ও গ্রামের মানুষের ধারণা, উমার কৈলাশে ফেরার বার্তা নিয়ে নীলকণ্ঠ পাখি আকাশে উড়ে যায়। প্রবীণ সদস্য অশোক মুখোপাধ্যায়, উত্তম মুখোপাধ্যায়, শেফালি মুখোপাধ্যায়রা পরিবারের হাল ধরে পুজোর আয়োজন করেন।
পরিবারের বধূ ছায়া মুখোপাধ্যায়, পুরবি মুখোপাধ্যায়, সুমিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, পুজোয় মায়ের পায়ে অঞ্জলি দেওয়া, দশমীর সিঁদুর খেলা পরিবারের ঐতিহ্য। পেশার টানে পরিবারের অনেকেই বিদেশে থাকলেও পুজোয় সকলে আনন্দ করি। পরিবারের সদস্য জ্যোতির্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেবী খুব জাগ্রত। কথিত আছে, পুজোর ষষ্ঠীতে দেবী কন্যা বেশে শাঁখারির থেকে শাঁখা পরেছিলেন। এক সময় ছাগ বলির প্রথা থাকলেও এখন চালকুমড়ো, আখ প্রভৃতি বলি হয়।-নিজস্ব চিত্র



