মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: বাবা মানে ভালোবাসা, ভরসা আর দায়বদ্ধতা। বাবা মানে, বিপদে আগলে রাখার একমাত্র ঠিকানা। পড়ে গেলে হাত ধরে তোলার বিশ্বস্ত সঙ্গী। এই ভাবনাকে সামনে রেখেই জঙ্গলমহলের পিড়াকাটা বাজার দুর্গাপুজো কমিটির এবারের থিম ‘বাবা’। শুক্রবার, মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় পুজোর উদ্বোধন করেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত। একদা মাও-হিংসার আঁতুড়ঘর পিড়াকাটার পুজোর থিমে মুগ্ধ তিনি। তিনি বলেন, মাও-হিংসার আঁতুড়ঘরেই আজ ভালোবাসা আর আগলে রাখার থিম! মণ্ডপসজ্জার সঙ্গেই মানানসই প্রতিমা ও আবহ সংগীত রচিত হয়েছে।মাওবাদী আতঙ্কে একটা সময় বন্ধ হতে বসেছিল শালবনী ব্লকের পিড়াকাটা গ্রামের একমাত্র পুজো। ২০১৮ সাল থেকে সেখানেই সর্বজনীন দুর্গাপুজো ছাড়াও হচ্ছে বাজার কমিটির পুজো। গত কয়েকবছর ধরেই জেলার অন্যতম সেরা পুজো হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে পিড়াকাটা বাজার দুর্গাপুজো কমিটির পুজো। টানা তিন বছর ধরে তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিশ্ববাংলা শারদ সম্মানেও ভূষিত হয়েছে এই পুজো। পুজো কমিটির তরফে গৌতম দাস, প্রণব লাহা, শমিত দাস বলেন, এবার আমাদের পুজোর থিম ‘বাবা’। সমস্ত দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা সহ্য করে, ত্যাগ আর ভালবাসার বিনিময়ে পরিবারের ভিতটা শক্ত করে ধরে রাখেন বাবা। অথচ, সংসারে তাঁর কৃতিত্ব বা অবদান প্রায়ই আমরা ভুলে যাই। হারানোর পর তাঁর অভাব আমরা অনুভব করি। তাই এই থিমের মধ্য দিয়ে সমাজকে আমরা বার্তা দিতে চাই। সংসারে বাবার গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁরা জানান, পুজোর বাজেট প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
পুজো উপলক্ষ্যে শুক্রবার রক্তদান শিবির ও বস্ত্রদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার দিন ধরে অন্নভোগ বিলি করা হবে বলেও জানিয়েছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। পিড়াকাটার বাসিন্দা অমল মাহাত, দীপক মাহাত, জয়হরি ঘোষ, শক্তি পাত্র বলেন, মাও আমলে পিড়াকাটার আকাশে-বাতাসে ছিল বারুদের গন্ধ। সঙ্গে বোমা-গুলির আওয়াজ। আমাদের দিন শুরু হত বড়ো রাস্তার উপর পড়ে থাকা রক্তাক্ত ‘লাশ’ দেখে। সেখানেই এখন পুজো ঘিরে উন্মাদনা। শুক্রবার বিকাল থেকেই মণ্ডপ চত্বরে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। তাঁরা বলেন, বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে যিনি আড়াল থেকে আমাদের আগলে রাখেন, সেই মানুষটির নাম ‘বাবা’। সংসারের নেপথ্যে থাকা সেই মানুষটিকে ঘিরেই এই পুজোর মণ্ডপসজ্জা। আমরা অভিভূত।-নিজস্ব চিত্র



